Breaking News:


শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা পিছিয়ে গেল খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব তুলে ধরে সরকারি ডকুমেন্টারি প্রকাশ ট্রাক ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ যুবকের মৃত্যু সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত : রবিবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ৪ বাংলাদেশি টাকার আজকের বিনিময় হার ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫’ সহ বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ অনুমোদন আসছে ৩ থেকে ৮ টি শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া : মধ্যরাতে কিংবা আগামীকাল সকালে রওনা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আরও ৩৬ আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিএনপি

১০ মাসে সরকারের ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

  • আপলোড টাইম : ১০:৫৩ এএম, রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫
  • ৮৭ Time View
ছবি: প্রতিকী

।।বিকে ডেস্ক রিপোর্ট।।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ব্যাপকহারে বেড়েছে।

প্রায় সাড়ে ১০ মাসে ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে সিংহভাগই নেওয়া হয়েছে গত সাড়ে তিন মাসে। তবে আলোচ্য সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেয়নি সরকার। উল্টো সাড়ে ১০ মাসে আগের নেওয়া ঋণের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

এর ফলে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজস্ব আহরণে ধীরগতি, বৈদেশিক উৎস্য থেকে কাংখিত ঋণ সহায়তা না আসা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে ভাঙানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের ঋণ ৯০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের জুন শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। গত ১২ মে শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস ১২ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৫৭ শতাংশ বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ দেওয়া বন্ধ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া ছাড়া সরকারের কোনো উপায় ছিল না। উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাত ঋণ নিতে আগ্রহী নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ করেনি সরকার। গত জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮ কোটি। গত ১২ মে শেষে স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই ১০ মাস ১২ দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকার উল্টো পরিশোধ করেছে ৪৯ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণকে টাকা ছাপানো হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গত ১২ মে শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ সামগ্রিক ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস ১২ দিনে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস ১২ দিনে ছিল ৫১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। এতে দেখা যায়, গত তিন মাস ১২ দিনে সরকারের ব্যাংকঋণ লাফিয়ে বেড়েছে।

এদিকে নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকার ব্যাংকঋণ নেওয়া অনেক কমানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী অর্থবছরের ব্যাংকঋণের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বা টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা ঠিক হবে না। আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকার ব্যয় সংকোচন নীতিতে চলছে। তবে বকেয়া ঋণ ও সুদ পরিশোধ অনেক বেড়েছে। আবার বেতনভাতাসহ সরকারের চলতি ব্যয় প্রতি বছর বেড়ে থাকে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল। অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা এর সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, এটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেয়। সূ-আ/স

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech