।।বিকে রিপোর্ট।।
নির্বাচনি জোট করলেও ভোটে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।
রবিবার ২৪ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, আরপিও’র ২০ অনুচ্ছেদ-এ সংশোধন এনে জোট করলেও ভোট করতে হবে দলীয় প্রতীকে-এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এমন সংশোধনে অন্যান্য দলের মত বিএনপিও হতবাক হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই সংশোধনের সাথে একমত নয়। এই সংশোধনী বা পরিবর্তন বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ সংশোধনী থেকে সরে এসে আরপিও’র আগের বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে আমরা সিইসির কাছে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছি।
সিইসির কাছে চিঠি হস্তান্তরের পর তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল নিজেদের বিবেচনায় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে এবং নিজেদের দলের বা জোটের অন্য কোনো দলের প্রতীক নিয়ে ভোট করেছে। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন হয় বৃহস্পতিবার। এটি এখন রাষ্ট্রপতির সইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
এবার আরপিও সংশোধনে একগুচ্ছ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলের জোটগত ভোটের বিষয়ে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, জোট মনোনীত প্রার্থী হলেও তাকে ভোট করতে হবে নিজের দলের প্রতীকে।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান আরপিও-এর অনুচ্ছেদ- ২০ এ যুক্ত করা হয়েছে।
অতীতে বড় দলগুলোর সঙ্গে একাধিক ছোট দল জোট করে, অনুমতি সাপেক্ষে ইসিকে জানিয়ে বড় দলের জনপ্রিয় প্রতীকে ভোট করেছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ না করেও জোটভুক্ত হয়ে ধানের শীষ, নৌকায় ভোট করে জিতে এসেছে। এবার আরপিও সংশোধন হওয়ায় জোট করলেও প্রার্থীকে নিজের দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।
আরপিওর এমন সংশোধন নিয়ে ইতোমধ্যে আপত্তি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। আরপিও সংশোধনের দুদিন পর সকালে বিএনপির প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে আনুষ্ঠানিকভিাবে আপত্তি জানিয়ে গেল।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন।