।।বিকেিআন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ।
পরিবারের সদস্য ও নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাওয়ের তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিবাদকারী এরফান সুলতানির ফাঁসির সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তার ফাঁসি বুধবার বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। ফাঁসির নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে কারাগারের কর্তৃপক্ষ তাদের ফোন করে জানায় যে ফাঁসির সময় আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, তবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি, যিনি কারাজ শহরে একটি পোশাক দোকানে কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর গ্রেফতার হন।
সিএনএনের প্রতিবেদন মতে, মাত্র তিনদিনের বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় সোলতানির পরিবারের কোনো স্বজন কিংবা বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি। সোলতানির বোন একজন নিবন্ধিত ও পেশাদার আইনজীবী। তিনিও থাকতে পারেননি।
সোলতানি ইরানের প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্যে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে আরও অনেকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। নরওয়ের হেঙ্গাও মানবাধিকার সংস্থা জানায়, সোলতানিকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা বা আইনগত সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।
গত দুই সপ্তাহে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার এবং অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। এই প্রতিবাদ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর, যখন দেশটির মুদ্রার মান হঠাৎ পতন হয় এবং এরপর তা রাজনীতিক সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে।
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানকে সোলতানি ও অন্যান্য প্রতিবাদীদের ফাঁসি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান প্রায়ই প্রতিবাদীদের কয়েক মিনিটের ট্রায়ালে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সোলতানিকে গ্রেফতারের মাত্র চার দিন পর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘ন্যায়বিচারের অধিকার হরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং গ্রেফতার বা আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি জানান, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ সংক্রান্ত তথ্যের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের খবর প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।