।।বিকে রিপোর্ট।।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশে প্রবাসী আয়ের ধারা শক্তিশালী রয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই রেমিট্যান্সের প্রবাহে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনে দেশে ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পরিস্থিতি সত্ত্বেও এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স-প্রবাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। মূলত মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসীরা তাদের জমানো অর্থ দ্রুত দেশে পাঠাচ্ছেন।
এছাড়া রোজা ও ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স-প্রবাহ শক্তিশালী থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ডলারের দামও কিছুটা বেড়েছে, যা বাজারে চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে ১২২ টাকা দরে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা যেত। যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় সেটি বেড়ে এখন ১২৩ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এতে আমদানিতে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিবার-পরিজনের খরচ মেটানো এবং জাকাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রবাসীরা এ সময় বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। এছাড়া যুদ্ধের উত্তেজনায় ডলারের বিনিময়হার বৃদ্ধির কারণেও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বেড়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অস্থিরতার কারণে কিছুটা আতঙ্কে আছেন। তারপরও ঈদ সামনে রেখে তারা দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। অনেকে জাকাতের জন্যও অর্থ পাঠাচ্ছেন। এ কারণে সংকটের মধ্যেও প্রবাসী আয় বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ২২০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ২৪ মার্চ শেষ ৩ দিনে আসে ২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের মার্চের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছিল ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১ট মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এ সময় প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।
প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। গত ১১ মার্চ শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ডলার বা ৩৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে ওই দিন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৫৬ কোটি ডলার বা ২৯ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। সংকলিত।