Breaking News:


শিরোনাম :

খাগড়াছড়িতে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি, নিহত ৪

  • ০২:৩৩ পিএম, শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে রিপোর্ট।।
পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুই পাহাড়ি রাজনৈতিক দল জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জোড়া সিন্ধু কারবারিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস–সন্তু লারমা গ্রুপ) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ–প্রসিত খিসা গ্রুপ) এর সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র গ্রুপ কমান্ডার বিপ্লব চাকমার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল এবং জেএসএস-এর সশস্ত্র কমান্ডার জয়দেব চাকমার নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জনের আরেকটি দল জোড়া সিন্ধু কারবারিপাড়ায় মুখোমুখি হয়। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ভারী অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর সামরিক শাখা ‘গণমুক্তি ফৌজ’ বা ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’র চার সদস্য এ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া আরও জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে।

ইউপিডিএফের জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা শনিবার সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ গোলাগুলির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কোনো তথ্য ইউপিডিএফের জানা নেই এবং ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে ‘গণমুক্তি ফৌজ’ বা ‘পিপলস্ লিবারেশন আর্মি’ নামে তার কোনো সামরিক শাখা থাকার প্রশ্ন একেবারে অবান্তর ও কাল্পনিক।

ভাইবোনছড়ায় ত্রিপুরা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দুরভিসন্ধিমূলক মিথ্যা প্রচারে নেমেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

১৯৯৭ সালে সরকার এবং জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর তার বিরোধিতায় গড়ে ওঠে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

সেই থেকে দুই দলের বিরোধে ২০১৬ পর্যন্ত সশস্ত্র সংঘাতে মারা গেছে প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী। ২০১৬ সালে দুই দলের মধ্যে অলিখিত ও অপ্রকাশ্য এক সমঝোতায় সশস্ত্র সংঘাত থামলে কিছুটা স্বস্তি আসে পাহাড়িদের মনে।

কিন্তু এরই মধ্যে জেএসএস থেকে বেরিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দল গড়ে ওঠে, যা সংঘাতে আনে নতুন মাত্রা।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech