Breaking News:


গাজায় একদিনে নিহত ৭২, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৫৪ হাজার ৩০০ : গাজাবাসী শতভাগ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে-জাতিসংঘ

  • ১১:৫২ এএম, শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত, ফাইল ফটো

।।বিকে ডেস্ক রিপোর্ট।।
দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিমান অভিযানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহত হয়েছেন ৭২ জন ফিলিস্তিনি। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ২৭৮ জন।

শুক্রবার ৩০ মে সন্ধ্যার পর এক গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

প্রতিবেদেন বলা হয় বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রকৃত নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ অনেকেই ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে আছেন। তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। শুক্রবারের অভিযানের পর গত দেড় বছরে উপত্যকায় মোট নিহত ও আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে যথাক্রমে ৫৪ হাজার ৩২১ জন এবং ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৭০ জনে। এই নিহত এবং আহতদের ৫৬ শতাংশই বেসামরিক নারী ও শিশু।

এর আগে ’২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।

হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল।

কিন্তু বিরতির দু’মাস শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। দ্বিতীয় দফার এ অভিযানে গত আড়াই মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮২২ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১১ হাজার।

যে ২৫১ জন জিম্মিকে হামাসের যোদ্ধারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে এখনও অন্তত ৩৫ জন জীবিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের আদালত নামে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর করা এবং জিম্মিদের মুক্ত করা এই অভিযানের লক্ষ্য এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে গাজায়।

এদিকে সম্প্রতি গাজায় ফের দু’মাসের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা হাজির করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তাবনায় নেতানিয়াহু সম্মতি দিলেও হামাস এখন অনুমোদন করেনি।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ-এর একজন মুখপাত্র শুক্রবার বলেছেন, গাজা বিশ্বের ‘একমাত্র দুর্ভিক্ষের চিহ্নিত অঞ্চল’ যেখানে সমগ্র জনসংখ্যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, ওসিএইচএ-এর মুখপাত্র জেন্স লারকে বলেছেন, ‘গাজা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত স্থান।’

তিনি বলেছেন, ‘এটিই একমাত্র চিহ্নিত অঞ্চল, একটি দেশ বা একটি দেশের মধ্যে চিহ্নিত অঞ্চল যেখানে সমগ্র জনসংখ্যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। শতভাগ জনসংখ্যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।’

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech