Breaking News:


শিরোনাম :

চট্টগ্রাম–ঢাকা পাইপলাইনে তেল পরিবহন শুরু

  • ১১:১২ এএম, রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকায় পাইপলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।

শনিবার ১৬ আগস্ট বেলা ১১টায় পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় জ্বালানি তেলের প্রধান স্থাপনা (এমআই) প্রান্তে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

উদ্বোধন শেষে তিনি প্রকল্প এলাকা এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ঘুরে দেখেন। এটি উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে জ্বালানি পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় ছাড়াও স্বল্প সময়ে পাইপলাইনে তেল পরিবহন সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত তেল পরিবহণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বার্ষিক খরচ প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। একই পরিমাণ তেল পাইপলাইনে সরবরাহ করতে খরচ হবে মাত্র ৯০ কোটি টাকা। ফলে বছরে অন্তত ২২৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া সিস্টেম লস ও চুরি ঠেকানোর মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় আরও বাড়বে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সাশ্রয়ের পরিমাণ বছরে বেড়ে আড়াই হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আরও জানান, বছরে ৫০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের সক্ষমতাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত, সিস্টেম লস কমানো, নৌপথে তেল পরিবহনের বিপুল খরচ সাশ্রয়, পরিবেশ সুরক্ষা, ঝুঁকিমুক্তভাবে দ্রুত সময়ে তেল পরিবহনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। তিন হাজার ৬৫৩ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হয় প্রকল্প। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রায় ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ ধরা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরু করতে ২০২০ সাল লেগে যায়। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বর এবং তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হয়। এতে খরচ বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বরুড়া হয়ে তেল যাবে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ঢাকার ফতুল্লায়। কুমিল্লার বরুড়ায় স্থাপন করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ অটোমেটেড ডিপো। এই ডিপো থেকে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সন্নিহিত অঞ্চলের প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করা হবে।

ডিপোতে তেল গ্রহণ ও সরবরাহ সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে কম্পিউটারাইজড প্রযুক্তিতে। তেলের ওজন, তাপমাত্রা এবং সরবরাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত ও মনিটর করা হবে।

পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ মেট্রিকটন এবং বছরে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন মেট্রিকটন তেল পরিবহন সম্ভব হবে। আগে নৌপথে ট্যাংকারে নিতে লাগত ৪৮ ঘণ্টা, এখন সময় কমে ১২ ঘণ্টা।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, যেখান থেকে পুরো পরিবহণ প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ২৪ ঘণ্টা মনিটর করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ইতোমধ্যে পাঁচ কোটি লিটার ডিজেল কোনো ক্ষতি ছাড়াই পরিবহণ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, এখন রিজার্ভার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিপোতে দ্রুত ও নিরাপদে তেল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

২০১৮ সালে ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকায় অনুমোদিত এ প্রকল্প করোনা পরিস্থিতিতে বিলম্বিত হয়ে চলতি বছরের মার্চে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাড়তি খরচ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech