।।বিকে রিপোর্ট।।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঝটিকা মিছিলে অর্থায়নকারীদের ও আইনের আওতায় আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
শুক্রবার ৩১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর খিলক্ষেত, উত্তরা, বাড্ডা, বনানী, বিজয়নগর ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চলতি বছর আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে– এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, চলতি বছরের আজকের দিন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবশ্যই যারা সরাসরি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি জানা গেছে। এই ঝটিকা মিছিলে অর্থায়নকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।আমরা যাদেরকে গ্রেফতার করেছি তারা সহ ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে এসে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করছে। এর পেছনে অনেকে অর্থায়ন করছে এবং প্রত্যেকটা মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।
মূলত এর উদ্দেশ্য হচ্ছে– তাদের যে অবস্থান সেটা জানান দেওয়া এবং ঢাকা মহানগরীতে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার একটা অপচেষ্টা করা। যেকোনো মূল্যে ঢাকায় তাদের যে অবস্থান আছে সেটা প্রকাশ করা। বেসিক্যালি মিছিলের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের যে তৎপরতা আছে, তারা সক্রিয় রয়েছে, সেটা জানান দেওয়া।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি- ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে এসে ঝটিকা মিছিলে অংশ নিচ্ছে।
এর পেছনে অনেকেই অর্থায়ন করছে, প্রতিটি মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্কের টাকাও দেওয়া হচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়া এবং ঢাকা মহানগরীতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, এটা আসলে গণগ্রেফতার বলা যাবে না। আমরা যে গ্রেফতারগুলো করছি একদম তাৎক্ষণিকভাবে ঝটিকা মিছিলে যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের। আমরা গ্রেফতার করার পর যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তাদের পূর্বাপর যে ইতিহাস সেটা যাচাই-বাছাই করে তারপর সন্তুষ্ট হলেই তাকে মামলায় চালান দেওয়া হচ্ছে।
আর যে বিষয়টা এখানে আমরা দেখেছি যে, ঢাকা মহানগরের বাইরেও বিভিন্ন স্থান থেকে এসে তারা মিছিলে অংশগ্রহণ করে আবার চলে যাচ্ছে। অনেককে হাতেনাতে ককটেলসহ ধরা হয়েছে। এসব ককটেল খুবই বিপজ্জনকভাবে তৈরি করা।
তাদের উদ্দেশ্য কী, নাশকতা করা বা কাউকে আহত করা? এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, আপনারা দেখেছেন আমরা এর আগে একদিনে ২৪৪ জন, আরেকদিন ১৩১ জনকে গ্রেফতার করেছি। মিছিলগুলো থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার একটা অপচেষ্টা করা হয়।
অনেককেই আমরা ককটেলসহ গ্রেফতার করেছি। যে অপতৎপরতা তারা চালিয়ে যাচ্ছে সেটা যেন না করতে পারে সেজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি।
আপনারা জানেন নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা আরেকটু বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধ করার বা রুখে দেওয়ার সক্ষমতা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রয়েছে। ৃ