।।বিকে ডেস্ক।।
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসের অভয়াশ্রম থেকে মুক্ত করে সুশাসন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এর অংশ হিসেবে সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে সেখানে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও স্থানান্তর করা হবে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।
এসব স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বর্তমানে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের সমন্বয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে এ কাজ এগিয়ে চলেছে। সভায় সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি : জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা সরকারি জমি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি জমি, পাহাড় শ্রেণির জমি কিংবা খাসজমি— সবকিছু সুশাসনের আওতায় আনা হবে।
এর অংশ হিসেবে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি নির্ধারণের কাজ চলছে।
৭২ একর জমিতে কেন্দ্রীয় কারাগার : চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও জঙ্গল সলিমপুরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নতুন কারাগারটি স্থাপন করা হবে। ফলে বর্তমান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে সেখানে নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য স্থাপনাও গড়ে তোলা হবে। এজন্য পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও এপিবিএনের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব স্থানে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকায় বাহিনীগুলোর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অবৈধ বসতি নিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ : জঙ্গল সলিমপুরে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ওই এলাকায় থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালনার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা— সব বিষয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে সুশাসনের আওতায় এনে সন্ত্রাসের অভয়াশ্রম থেকে মুক্ত করা হবে। এলাকাটিকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ : জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, এপিবিএন, কোস্ট গার্ড ও এসআরবির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, সড়ক যোগাযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হবে।
পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনাক্যাম্প : এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকায় অপরাধ দমনে আরও দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালিতে ক্যাম্প দুটি স্থাপন করা হবে। এগুলো ১০ ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণ ও মুক্তিপণের মতো অপরাধের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালীতে সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এ কারণেই দুটি ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জন-আস্থা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ : এদিকে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত পুলিশের আইজিপির সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আইজিপির বক্তব্য অনুযায়ী পুলিশের জন্য জন-আস্থা বহাল রাখাই বড় কাজ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জন-আস্থা আমরা অর্জন করেছি। জন-আস্থাটা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, সেটার বিচার করবে জনগণ।’
তিনি বলেন, জন-আস্থা ধরে রাখা এবং আরও বেশি জন-আস্থা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।