।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে বলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় সকালে) যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
এদিকে তার এ বক্তব্য শেষ হওয়ার প্রায় সাথেই সাথেই দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান।
হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ভাষণের শুরুতেই নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
এরপর তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, “আজ ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরমুহূর্তে, যেখানে তিনি দাবি করেন ইরানের সামরিক সক্ষমতা চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায় তারা ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল শনাক্ত করেছে।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে নতুন এ মিসাইল ছোড়া হয়। যেগুলোর প্রভাবে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোকেও ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না। তিনি আরও বলেন, ইরান বহু দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে দেশটির কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
ভাষণে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের সময় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে পেঁতে রাখা বোমার হোতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “সোলাইমানি এখনো বেঁচে থাকলে আজ রাতের আলোচনা ভিন্ন হতো। তবে তবুও আমি জিততাম, বড় জয় পেতাম।”
ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ দীর্ঘ তালিকা রয়েছে এবং দেশটির সরকারে থাকা ব্যক্তিদের ‘ঠগ’ ও ‘খুনি’ বলে অভিহিত করেন।
এছাড়া তিনি বলেন, ইরানের এমন নেতৃত্বকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না। “আমি তা হতে দেব না,” বলেন ট্রাম্প।
ইরান প্রস্তর যুগে থাকার যোগ্য তাদের আবার সেখানেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে তারা ইরানে ব্যাপক হামলা চালাবেন। আর এই সময়ের মধ্যে ইরানকে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। নয়ত দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন হওয়ার আগ পর্যন্ত হামলা অব্যাহত রাখব। এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু এগিয়েছি, আমি বলতে পারি (ইরানে) মার্কিন লক্ষ্য খুব অল্প খুবই অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারব।”
আমরা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাব। আমরা ইরানকে প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠাব। যেখানে তারা থাকার যোগ্য।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আমদানির প্রয়োজন নেই। যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রয়োজন, তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই যুদ্ধ একটি ‘সফল বিনিয়োগ’। তিনি বলেন, “মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তারা আর পরমাণু আতঙ্কে নেই।” যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রায় ১৯ মিনিটের বক্তব্যের মাধ্যমে ভাষণ শেষ করেন ট্রাম্প।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা