।। বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের আজ ষষ্ঠ দিনে কুর্দি অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইরান একই সঙ্গে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ১৯তম দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, তারা ‘ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী’ লক্ষ্য করে এই অপারেশন শুরু করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আরবাত, জারকুইজ ও সুরদাশ এলাকায় অন্তত চারটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠী ‘কোমালা’র (Kurdistan Toilers Association) সদর দপ্তর। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, ইরাক সীমান্তে অবস্থানরত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তারা পশ্চিম ইরান থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার ব্যাপারে শলাপরামর্শ করছিল। এই হুমকি নস্যাৎ করতেই ইরান আগাম হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুর্দিদের ওপর হামলার পাশাপাশি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থে নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। উত্তর ইরাকের সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিদ্রোহ উসকে দিতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে বুধবার (৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানি বিরোধী দল ও ইরাকভিত্তিক কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য—ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে বড় শহরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সম্ভাব্য অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইসরায়েলি বাহিনী এরই মধ্যে ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানি সামরিক ও পুলিশ ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করেছে সূ্ত্রগুলো।
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্ক করে বলেছেন, যদি বিদ্রোহ ব্যর্থ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটে, তাহলে তা কুর্দিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাজারও যোদ্ধা ইরান-ইরাক সীমান্তজুড়ে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ‘আসন্ন পদক্ষেপ’-এর ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানি বাহিনীকে পক্ষত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন/আল-জাজিরা