।।বিকে স্পোর্টস।।
এবারও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আরেকবার সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিল প্রোটিয়ারা।
বুধবার ৫ মার্চ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে হেরে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আগে ব্যাট করে কেন উইলিয়ামসন ও রাচিন রবীন্দ্রর জোড়া শতকে ৬ উইকেটে ৩৬২ রান করে নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় রান। জবাবে ডেভিড মিলারের ৬৭ বলে ঝড়োগতির ১০০ রানের পরও ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩১২ রান করতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই জয়ে ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল খেলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে কিউইরা। এবার ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।
ইতিহাস যেন বারবার ফিরে আসে, মনে করায় অতীতকে। ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় আসরের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কিউইরা। আবার সেই দু’দল রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুবাইয়ে। প্রথম সেমিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারায় ভারত।
এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে রেকর্ড ৩৬২ রান করে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু পরিসংখ্যান ছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে। ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে সফল হওয়ার তালিকায় শীর্ষ দুটি স্থানই তাদের দখলে। ২০০৬ সালে ৪৩৮ ও ২০১৬ সালে ৩৭২ রান করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা, দুইবারই তাদের সামনে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এবার মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপসের স্পিন সামলে নিউজিল্যান্ডের ধারেকাছে যেতে পারেনি তারা।
এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেওয়া নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছে দ্রুতগতির। উইল ইয়ং ও রাচিন রবীন্দ্র মিলে যোগ করেন ৪৭ বলে ৪৮ রান। ২৩ বলে ২১ রান করে লুঙি এনগিদির শিকার হন ইয়ং। রাচিন অব্যাহত রেখেছেন আইসিসির ইভেন্টে নিজের সাফল্য। ওয়ানডাউনে নামা কেইন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ১৬৪ রানের জুটিতে গড়েন কিউইদের বড় পুঁজির ভিত।
বড় ম্যাচে আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন রাচিন। তুলে নিলেন শতরান। ১০১ বলে ১৩টি চার ও ১ ছক্কায় ১০৮ রান করে কাগিসো রাবাদার বলে বিদায় নেন রাচিন। বড় মঞ্চের তারকা উইলিয়ামসনও পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ৯৪ বলে ১০টি চার ও ২ ছক্কায় ১০২ রান করে উইয়ান মাল্ডারের বলে বিদায় নেন উইলিয়ামসন।
বাকি কাজটা করেন ডেরিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। প্রোটিয়া বোলারদের তুলোধুনা করে ন দুজনই। ৩৭ বলে ৪৯ করেন মিচেল। ফিলিপস ছিলেন আরও আগ্রাসী। ২৭ বলে ৬টি চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন ফিলিপস। কিউইরা পায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দলীয় সংগ্রহের দেখা।
প্রোটিয়াদের পক্ষে লুঙি ৩টি উইকেট নিলেও, ১০ ওভারে দেন ৭২ রান। ৭০ রানে ২ উইকেট পান রাবাদা। মাল্ডার নেন একটি।
জবাব দিতে নেমে দলীয় ২০ রানেই রায়ান রিকেলটনের (১৭) উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর অধিনায়ক টেমবা বাভুমা ও রাসি ফন ডার ডুসেন সতর্ক হয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৫ রানের জুটি গড়েন। বাভুমা ৭১ বলে ৪ চার, ১ ছয়ে ৫৬ ও ডুসেন ৬৬ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৬৯ রানে বিদায় নেওয়ার পর ধস নামে প্রোটিয়া ব্যাটিংয়ে।
এইডেন মার্করাম ২৯ বলে ৩১, হেনরিখ ক্লাসেন ৩, উইয়ান মুল্ডার ৮ ও মার্কো ইয়ানসেন ৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু মিলার একাই লড়াই চালিয়ে যান। ২১৮ রানে ৮ উইকেট হারানোর পরও দক্ষিণ আফ্রিকা মিলারের শতকে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩১২ রান করতে সক্ষম হয়।
মিলার মাত্র ৬৭ বলে ১০ চার, ৪ ছক্কায় ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৪৩ রানে ৩টি এবং ম্যাট হেনরি ও ফিলিপস ২টি করে উইকেট নেন।