।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দক্ষিণ চীন সাগরে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার এবং যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। রবিবারের এই ঘটনায় সব ক্রু সদস্যদকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ২৭ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি ও সিএনএন।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী দুটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।
রবিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দেশটির নৌবাহিনী জানায়, মেরিটাইম স্ট্রাইক স্কোয়াড্রন (এইচএমএম) ‘ব্যাটল ক্যাটস’-এর জন্য নিযুক্ত একটি এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টার দিকে বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস নিমিৎজ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার সময় বিধ্বস্ত হয়।
এরপর বিকাল সোয়া ৩টার দিকে স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন (ভিএফএ) ২২-এর ‘ফাইটিং রেডককস’-এর জন্য নিযুক্ত একটি এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট ফাইটারও নিমিৎজ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার সময় বিধ্বস্ত হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুটি আকাশযানের ক্রু সদস্যরা সফলভাবে বেরিয়ে আসেন এবং নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলেও সৌভাগ্যক্রমে পাঁচ ক্রু সদস্যই জীবিত রয়েছেন। তবে আধঘণ্টার ব্যবধানে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে।
ফ্লিটের বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পর এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টারের তিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটও ইজেক্ট করে নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। মোট পাঁচজনই “সুরক্ষিত এবং স্থিতিশীল অবস্থায়” রয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এপি বলছে, অবসর নেওয়ার আগে ইউএসএস নিমিৎজ বর্তমানে তার শেষ মিশনে অংশ নিচ্ছে। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করার পর এটি এখন ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নেভাল বেস কিটস্যাপে ফিরে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বেশ কয়েকটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু অংশের মালিকানা নিয়ে কয়েকটি দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এশিয়ায় কূটনীতিক সফরের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটল। চলতি সপ্তাহে বাণিজ্য বিষয়ে চুক্তি করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্রসংগত, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার ইউএসএস গেটিসবার্গ ভুলবশত ট্রুম্যান থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ/এ-১৮ জেটকে ভূপাতিত করে। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে আরেকটি এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান ট্রুম্যানের হ্যাঙ্গার ডেক থেকে পিছলে লোহিত সাগরে পড়ে যায়।
এরপর মে মাসে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেসময় লোহিত সাগরে ট্রুম্যান রণতরীতে অবতরণের সময় একটি এফ/এ সিরিজের যুদ্ধবিমান থামার তারে আটকে না গিয়ে সাগরে পড়ে যায়। আর তাই পাইলট দুজনকে বাধ্য হয়ে ইজেক্ট করতে হয়।
তবে এসব দুর্ঘটনায় কোনও নৌসেনা নিহত হননি। ঘটনাগুলোর তদন্ত শেষ হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র : এপি/সিএনএন