Breaking News:


শিরোনাম :
ঢাকা সহ চার সিটিতে হামের টিকা দেওয়া শুরু নদীতে ফুল ভাসিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব শুরু সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন : দ্বিতীয় দিনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন ৭৩ জন ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও সমঝোতা হয়নি : ভ্যান্স এডিবির ১১৬ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন : এনসিসিতে পানি, ড্রেনেজ ও সবুজায়নে বড় প্রকল্প পাহাড়ে কিংবা সমতলে, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দিনের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় ত্রাণমন্ত্রী, এভারকেয়ারে ভর্তি প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আগামী ১৪ এপ্রিল হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৮ দিনে ১৬৯ শিশুর মৃত্যু

নদীতে ফুল ভাসিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব শুরু

  • ১১:২৪ এএম, রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি:: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের বর্ষবরণ উৎসব। চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “ফুল বিজু” উদযাপনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।

রবিবার ১২ এপ্রিল ভোর থেকে নদী, ছড়া, ঝরনাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুল ভাসিয়ে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়।

উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। এই দিনে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। ফুল ভাসিয়ে সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করেন চাকমা নারী-পুরুষ ও শিশুরা। নারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি ও পুরুষেরা ধুতি পরে উৎসবে যোগ দেন।

শহরের খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট এলাকায় ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীর তীরে ভিড় করেন। তারা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন। নদীর দুই তীর রঙিন ফুলে সাজানো হয়ে ওঠে এক বর্ণিল দৃশ্যে, যেন প্রকৃতি নিজেই উৎসবে অংশ নিয়েছে।

ফুল বিজু মূলত পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। এই দিনটিতে মানুষ প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের জন্য।

এছাড়া পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যাম এলাকায় চেঙ্গী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ফুল ভাসাতে ভিড় করেছেন স্থানীয় চাকমা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। তাদেরই একজন প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা। দুই কিলোমিটার দূরে লতিবান এলাকা থেকে এসেছেন তিনি।

তিনি বলেন, একসময় সন্তানদের নিয়ে ফুল ভাসাতে আসতাম। এখন বয়স বাড়ায় কষ্ট হলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে এসেছি, মনের শান্তির জন্য। এবার প্রাণভরে প্রার্থনা করলাম, সবাই মিলেমিশে যেন ভালো থাকতে পারি, পৃথিবীতে যেন শান্তি থাকে।

তিনি বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য সুখ–শান্তি কামনা করেছি। এখানে শত শত নারী-পুরুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আমিও সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এদিনটার জন্য।

আমরা বন্ধুরা মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য সুখ–শান্তি কামনা করেছি। এখানে শত শত নারী-পুরুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আমিও সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এদিনটার জন্য।

উৎসব দেখতে রাবার ড্যাম এলাকায় ভিড় জমান সমতলের লোকজনও। কক্সবাজার থেকে উৎসব দেখতে আসেন উপমা বড়ুয়া ও সালমা আক্তার।

তারা জানান, ২০২৪ সালে একবার রাঙামাটিতে ফুল ভাসানো উৎসব দেখতে গিয়েছিলেন দুজন। উৎসব দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছিলেন। এবার তাই আবারও ফুল ভাসানোর উৎসব দেখতে এসেছেন।

বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন চাকমারা বিজু উদ্যাপন করেন। আজ ফুল বিজু, ১৩ এপ্রিল মূল বিজু, ১৪ এপ্রিল নু’অ বজর বা নতুন বছর, আর পয়লা বৈশাখের পর দিন উদ্যাপিত হয় গোজ্যেপোজ্যে দিন’ হিসেবে। উৎসবের প্রথম দিনে পূজা-অর্চনা ও বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। দ্বিতীয় দিনে অতিথি আপ্যায়ন ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় দিনে হাঁস-মুরগি ও পশুপাখিদের খাবার দেওয়া ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়া হয়।

পার্বত্য অঞ্চলের এসব উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি লালন করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেন। বর্ষবরণকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন উৎসবের রঙ, গান, নৃত্য আর মানুষের মিলনমেলা যেখানে নতুন বছরের স্বপ্নে ভরে উঠছে সবার মন। সংকলিত।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech