।।বিকে রিপোর্ট।।
বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য প্রফেসর এমিরেটাস ড. এম শমশের আলী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রবিবার ৩ আগস্ট প্রথম প্রহরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
শমশের আলীর বড় ছেলে জেহান আলী তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বাদ জোহর ধানমন্ডির ৭ নম্বর রোডের বায়তুল আমান মসজিদে জানাজা হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১৯৪০ সালের ৯ নভেম্বর শমশের আলীর জন্ম। যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজশাহী কলেজ থেকে এইএসসি পাস করে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পদার্থবিজ্ঞানে ১৯৫৯ সালে অনার্স এবং ১৯৬০ সালে মাস্টার্স করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় অংশ নেন। ১৯৬৫ সালে সেখান থেকেই থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬১ সালে পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে শমশের আলীর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান। ১৯৬৫ সালে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করে ওই বছর দেশে ফিরে তিনি ঢাকায় আণবিক শক্তি কেন্দ্রে সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ১৯৭৩ সালে অনারারি প্রফেসর হিসেবে সম্মানিত করা হয়। ১৯৮২ সালে তিনি পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।
১৯৯২ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নেন। ২০০২ সালে বেসরকারি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সময়ও তিনি উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক শমশের আলী। তিনি বাংলা একাডেমির একজন ফেলো এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত।
শমশের আলীর লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে: ‘পবিত্র কোরআনে বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত’, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম অবদান’, ‘আলাদিনস রিয়েল ল্যাম্প: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’।
বিশিষ্ট এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, অধ্যাপক শমশের আলীর অবদান জাতির স্মৃতিতে চিরভাস্মর হয়ে থাকবে। অধ্যাপক শমশের আলীর মৃত্যুতে দেশের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো ।