Breaking News:


শিরোনাম :
সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়ে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে নামবে বিরোধী দল: শফিকুর সৌদি-আমিরাতে হামলা চালিয়েছে ইরান ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিলো সরকার আটকে গেল সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের কারামুক্তি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে হামলা, বাহরাইনে বড় বিস্ফোরণ : নিরাপত্তা সতর্কতা জারি সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেইঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রা: আজ মিলছে ২৫ মার্চের ট্রেনের টিকিট জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন অকেজো করে দিয়েছে ইরান মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে

পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু : প্রশাসক নিয়োগ

  • ১১:০৬ এএম, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক মার্জার বা একীভূত করতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব নিয়েছে সরকার এবং পরিচালনার জন্য প্রশাসক নি‌য়োগ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

বুধবার ৫ ন‌ভেম্বর বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই পাঁচটি ব্যাংককে অকার্যকর (নন-ভাইয়েবল) ঘোষণা করা হয়েছে। তারা স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে।

অকার্যকর ঘোষিত ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

গভর্নর জানান, একীভূতকর‌ণের বিষটি এতো‌দিন কাগ‌জে কল‌মে ছিল আজ আনুষ্ঠা‌নিক যাত্র শু‌রু করলো। বাংলা‌দেশ ব্যাংক ৫‌টি ব্যাংককে চি‌ঠি দিয়ে‌ জা‌নি‌য়ে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে যে তারা অকার্যকর। পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দিয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো পরিচালনার জন্য প্রত্যেক ব্যাংকের একজন ক‌রে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। প্রশাসকের স‌ঙ্গে সহ‌যোগীও দেওয়া হ‌চ্ছে।

তিনি জানান, এ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

গভর্নর মানসুর বলেন, প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হবে ব্যবসা অব্যাহত রাখা এবং নিশ্চিত করা যে ব্যাংকগুলোর শাখা আজ ও কাল খোলা থাকবে— যাতে অর্থপ্রদান ও রেমিট্যান্স নিষ্পত্তির মতো জরুরি সেবা বাধাগ্রস্ত না হয়।

তিনি জানান, প্রশাসন চারটি মূল বিষয়ে নজর দেবে— ব্যবসা পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সিস্টেম একীভূতকরণ, মানবসম্পদ মূল্যায়ন ও সমন্বয়, এবং শাখা পুনর্গঠন।

তিনি জানান, আজ থেকে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের তাদের প্রচেষ্টা ও ব্যাংকিং খাতে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

ড. মানসুর বলেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে যাতে আরও অবনতি রোধ করা যায়।

তিনি জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে চায়।

গভর্নর বলেন, সরকারকে একটি আর্থিক ব্যবস্থাপনা কৌশল জমা দেওয়া হয়েছে এবং একীভূতকরণ সম্পন্ন হলে সরকার তারল্য সহায়তা দিতে পারবে।

‘নতুন সত্তাটি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। এর পরিশোধিত মূলধন হবে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা— যা বর্তমানে কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১,৫০০ কোটি টাকার তুলনায় বহুগুণ বেশি,’ তিনি যোগ করেন।

তিনি জানান, নতুন ব্যাংকটি প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হবে, তবে পরিচালনায় বেসরকারি ব্যাংকের ধাঁচে চলবে। এক বা দুই মাসের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও বোর্ড নতুনভাবে গঠিত হবে, যেখানে পেশাদার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের বেতন বাজারভিত্তিক হবে, সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত নয়,’ বলেন গভর্নর।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান কর্মীরা প্রাথমিকভাবে আগের বেতনই পাবেন এবং এই পর্যায়ে কোনো কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেই।

বর্তমান প্রায় ৭৫০ শাখার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবলকে পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর মানসুর বলেন, বর্তমানে পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখেরও বেশি আমানতকারী রয়েছেন। তারা যেন অযথা আতঙ্কিত না হন। নতুন সত্তাটি সরকার-সমর্থিত ব্যাংক, তাই আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।

তিনি জানান, নতুন ব্যাংকটি শরিয়াহ বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে এবং একীভূতকরণের প্রথম দিন থেকেই আমানতকারীরা বাজারভিত্তিক সুদ বা মুনাফা পাবেন।

গভর্নর আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন প্রয়োজন ছাড়া অর্থ তুলে না নেন এবং ব্যাংকটির প্রতি আস্থা রাখেন, কারণ এটি আরও শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

অকার্যকর ঘোষণা করা ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন— একীভূত হওয়ার পর তাদের শেয়ারের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে?

এ বিষয়ে গভর্নর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। তাই তাদের শেয়ারের ভ্যালু শূন্য (জিরো) হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কাউকেই কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক যেমন লভ্যাংশ পান, তেমনি ক্ষতির দায়ও নিতে হয়। আমরা এখানে শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি না, কেবল তাদের শেয়ারমূল্যকে শূন্য ধরা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অন্য দেশে হলে এই অবস্থায় শেয়ারহোল্ডারদের জরিমানা করা হতো। এখন এসব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক, কিছু ক্ষেত্রে তা ৪২০ টাকা পর্যন্ত নেগেটিভ।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন সরকার পরিবর্তনের পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে কি না— জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এটা দেশের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত। প্রত্যাশা করছি সরকার বদলালেও জনগণের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech