Breaking News:


বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যার সন্দেহভাজন হোটেল কর্মী মিলন র‍্যাবের হাতে আটক

  • ১১:১৮ এএম, সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
রাজধানীর বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হোটেল কর্মী মিলনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার ১২ জানুয়ারি সকালে এক বার্তায় র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‍্যাবের বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ বনশ্রীর নিজ বাসায় খুন হওয়া স্কুলছাত্রীর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হোটেল কর্মী মিলনকে বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার নিলি নামের ওই শিক্ষার্থীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। সে রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী প্রধান সড়কের এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’য় পরিবারের সঙ্গে থাকত সে।

নিহত স্কুলছাত্রীর বড় বোন শোভা জানিয়েছিলেন, ১০ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে বাসা থেকে জিমে যান তিনি। বাসায় ফিরে ছোট বোন লিলিকে জড়সড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে মাথায় আঘাত পেয়েছে ভাবলেও পরে হিজাব খুলে দেখেন গলায় রশি প্যাঁচানো এবং বঁটি দিয়ে কাটা।

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘাতক মিলন নিলির বাবা সজীব মিয়ার রেস্তোরাঁতেই কাজ করত। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে মিলনের সন্দেহজনক গতিবিধি এবং বাসায় প্রবেশের দৃশ্য ধরা পড়লে পুলিশ তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ধারণা, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে লুটপাটের উদ্দেশ্যে মিলন সেখানে প্রবেশ করে। নিলি বাধা দিলে তাকে বটি দিয়ে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া নিহতের মরদেহে ধর্ষণের কোনো আলামত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের সময় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আবেদন জানানো হয়েছে।

নিহতের বড় বোন সোভা হোটেলের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাদের একটি খাবারের হোটেল রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলের কর্মচারী মিলন খাবার নেওয়ার জন্য বাসায় এলে লিলির সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। শনিবার দুপুরেও মিলন খাবার নিতে বাসায় এসেছিল এবং সেদিন তার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পলাতক থাকার কয়েক দিনের মাথায় র্যাবের জালে ধরা পড়ল এই দুর্ধর্ষ ঘাতক। তাকে এখন সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর এবং রিমান্ড আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech