Breaking News:


বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ: বাস উল্টে আগুন লেগে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

  • ০৭:৫৭ পিএম, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের পর বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে আগুন লাগায় দগ্ধ হয়ে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন।

চালক এক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করার পর বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার ৯ জানুয়ারি দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে থাকা এক যাত্রীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পথিমধ্যে চালকের সঙ্গে এক যাত্রীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর চালক ক্ষিপ্ত হয়ে অত্যন্ত বেপরোয়া ও এলোমেলোভাবে বাসটি চালাতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে বানিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বাসটি চট্টগ্রামমুখী লেনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে উল্টে যায়। মুহূর্তেই বাসটিতে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এ সময় বাসের ভেতর থাকা অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

আহত ব্যক্তিদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের ভাষ্য, নিহতদের দুজন বাসের যাত্রী, দুজন মোটরসাইকেলের।

নিহত মোটরসাইকেল আরোহীরা হলেন- দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকার শামীম আহমেদ (৪০) এবং ছয় বছর বয়সী ছেলে নাদিভ আহমেদ। পরিবার জানিয়েছে, বাবা-ছেলে দুপুরে বানিয়াপাড়া দরবার শরিফে জুম্মার নামাজ পড়তে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন।

নিহত অন্যরা হলেন—নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মাঝেরচর এলাকার সুমন হোসেনের ছেলে মো. হোসাইন (২)। ১৮ মাস বয়সী এই শিশুর বাবা সুমনও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ফেনীতে যাচ্ছিলেন। নিহত অপর নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার যাত্রী সূত্রে বলেন, যাত্রীরা জানায় বাসটি প্রথমে খুব ধীরে ধীরে চলছিল। পরে হঠাৎ করেই গতি বাড়িয়ে দেয়। বাসটি তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়, এতে অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে সেটি গিয়ে মোটরসাইকেলের উপর উঠে যায়।

বাসের যাত্রী সুমন সাংবাদিকদের বলছিলেন, দুর্ঘটনার আগে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের চালক ও সুপারভাইজারের ঝগড়া হয়। কারণ, চালক বাসটি খুব কম গতিতে চালাচ্ছিলেন। আর সুপারভাইজার যেখানে সেখানে থামিয়ে রাস্তা থেকে লোক তুলছিলেন।
ঝগড়ার মধ্যে হঠাৎ করেই চালক গতি বাড়িয়ে দেন। তখন তিনি বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন আর দুর্ঘটনা ঘটে।”

গৌরীপুরে অবস্থিত দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, বানিয়াপাড়া থেকে মোট ২৬ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন উদ্ধারকারীরা। চারজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আপাতত হাসপাতালে রাখা হয়েছে। চারজন অগ্নিদগ্ধ ছিল।

দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক এরশাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক রাস্তায় ঘর্ষণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মোটরসাইকেলের অকটেন ছড়িয়ে পড়লে আগুনও বেড়ে যায়। হয়ত ধোঁয়ার কারণে যাত্রীরা বাস থেকে বের হতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বলেন, তারপরও আমরা তদন্ত করে দেখছি দুর্ঘটনার মূল কারণ কী?

পুলিশ জানায়, বাসটিকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছে। চালক পালিয়ে গেছেন। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সংকলিত।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech