।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
চলমান আন্দোলনের বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান সরকার হত্যা করে তাহলে দেশটিতে কঠোর হামলা চালানো হবে বলে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান সরকার এ মুহূর্তে বিপদে আছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান (সরকার) বড় বিপদে আছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে বিক্ষোভকারীরা অনেক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, এমনটি সম্ভব হতে পারে যা কয়েক সপ্তাহ আগে কেউ চিন্তাও করেনি। আমরা খুবই সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, আমি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছি, যদি আগের মতো তারা বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা শুরু করে, আমরা এরসঙ্গে জড়িত হব। এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের সেনারা ইরানে যাবে। কিন্তু এর অর্থ হলো তাদের সেখানে খুবই কঠোর…কঠোর হামলা চালাব, যেখানে হামলা চালালে তারা সবচেয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হবে। এমনটি হোক আমরা চাই না।
ইরানের বিক্ষোভকে অসাধারণ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরানে যা হচ্ছে তা বেশ অসাধারণ। ইরান সরকার বেশ খারাপ করেছে। তারা তাদের নাগরিকদের সঙ্গে খুব খারাপ করেছে। এখন তারা সেটির জবাব পাচ্ছে।
এদিকে শুরু থেকেই ইরান কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, বিদেশি এজেন্টরা জনগণের বৈধ বিক্ষোভকে সহিংস নগর সংঘর্ষে রূপান্তরের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক প্রধান মাইক পম্পেও। একইসঙ্গে এই অস্থিরতায় তেহরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের গোয়েন্দা এজেন্টদের সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের সময় তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের নেতৃত্ব দানকারী মাইক পম্পেও শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত দেন।
পম্পেওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এর কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ফারসি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে উৎসাহিত করা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানিদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দাবি করা হয় যে, তাদের এজেন্টরা বিক্ষোভকারীদের মাঝেই মিশে আছে।
ইরান কর্তৃপক্ষও এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, বিদেশি এজেন্টরা জনগণের বৈধ বিক্ষোভকে সহিংস নগর সংঘর্ষে রূপান্তরের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, ইরানে চলমান অস্থিরতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ক্রমশ কঠোর হচ্ছে। গতকাল ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে বলেন, যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং তাদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান। চিঠিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে “সহিংসতা, অস্থিরতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি” দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ইরান।
তারা বিশ্ব সংস্থাকে ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানানোর এবং ওয়াশিংটনকে “সব ধরনের হুমকি বা বলপ্রয়োগ” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের কথা স্বীকার করলেও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সহিংসতা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল/এএফপি