।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের অভিযোগে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেফতার ও গত রবিবার কারাগারে পাঠানোর পর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক। যদিও দেশটির বিরোধীদলীয় এই নেতা তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
বিক্ষোভের মধ্যেই ইমামোগলুর দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) সদস্য নুরি আসলানকে বুধবার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইমামোগলুর মেয়াদের বাকি সময় দায়িত্ব পালন করবেন।
সিএইচপি-প্রধান ইমামোগলু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে তিনি এরদোয়ানের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। দেশটির আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইমামোগলুর নাম ঘোষণার কয়েক দিন আগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তার গ্রেফতারে গত এক দশকেরও বেশি সময় পর তুরস্কে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সড়কে জনসমাগমের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তুরস্কের বেশিরভাগ শহরে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার মানুষ।
ইমামোগলুর রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি), অন্যান্য বিরোধী দল, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো বলেছে, মেয়রের বিরুদ্ধে মামলাটি এরদোয়ানের সম্ভাব্য নির্বাচনী হুমকি দূর করার রাজনীতিক প্রচেষ্টা। মামলার কারণে তাকে মেয়রের পদ থেকে বরখাস্তের পর গ্রেফতার করা হয়।
ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরাম ইমামোগলুকে গ্রেফতার ও দেশজুড়ে ছড়িয়ে বিক্ষোভের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে করেছে তুরস্ক। ইস্তাম্বুলের মেয়রকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবৃতির নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি।
মেয়র ইমামোগলুকে গ্রেফতারের পেছনে রাজনৈতিক কোনও উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে দেশের বিচারবিভাগ স্বাধীন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এরদোয়ান ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এরপর থেকে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনে জালিয়াতিসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারাবন্দী করার ও দমন-নিপীড়ন চালানোর অসংখ্য অভিযোগ আছে তার সরকারের বিরুদ্ধে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া বলেছেন, ‘গত বুধবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৮৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে থেকে ৪৮৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিক্ষোভে অন্তত ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। সরকার ‘‘রাস্তায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’’ বরদাশত করবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন তিনি।
ইস্তাম্বুলে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন। পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির আঙ্কারা ও পশ্চিম উপকূলীয় শহর ইজমিরেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তুরস্কের সরকার।
দেশটিতে গত কয়েক দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভকে ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে দাবি করেছেন বিরোধীরা। সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ সামলাতে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।