।।বিকে ডেস্ক।।
সরকার দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও ১১টি—বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। এর আগে ২০২৬ সালে প্রথমে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিটি সই করেছে বাংলাদেশ। জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেলে বোয়িংয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন। বিমানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন বোর্ড চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন।
তিনি জানান, মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই বিমান কিনবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’ বোয়িং প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসাইন বলেন, আজকের এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের চলমান বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ক্রয়াদেশ আমাদের বহর পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বছরের পর বছর ধরে বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের দলের কার্যকর কাজের সম্পর্ক উড়োজাহাজ সরবরাহ ও সহায়তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের আস্থা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন হিসেবে আমরা বাংলাদেশের জনগণ, প্রবাসী সম্প্রদায়, ব্যবসা ও পর্যটনের যোগাযোগের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া বৃহত্তর ও সুচিন্তিত পরিকল্পনারই একটি অংশ এই চুক্তি।
উল্লেখ্য, বিমান বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে ৭৮৭, ৭৭৭ এবং ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের প্রধান প্রধান হাবের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, বিমানের নতুন এই ক্রয়াদেশ বহর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এবং আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের শক্তি তুলে ধরে। অতিরিক্ত ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো বিমানকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সাশ্রয়, বহুমুখিতা ও নির্ভরযোগ্যতা দেবে, যা বৈশ্বিক এভিয়েশনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা সমর্থনে প্রয়োজন।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। সেই চুক্তিতে ছিল— ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।