Breaking News:


শিরোনাম :
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ১৭৮ আসনে এগিয়ে বিজেপি, তৃণমূল ১১৩ আসনে নতুন ই-বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়িচাপায় নিহত অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থান’ বানানোর হুমকি ইরানের মে মাসে অপরিবর্তিত থাকছে এলপিজির দাম জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সংসদীয় বিশেষ কমিটির কার্যক্রম শুরু বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা – বইতে পারে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ভারতের সাথে ২১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

  • ১১:১৬ এএম, শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
কলকাতাভিত্তিক একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে ১৮০ কোটি রুপির (প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলার) টাগ বোট কেনার চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ।

ভারতের সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE)-এর কাছ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি আধুনিক টাগ বোট কেনার অর্ডার দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও GRSE প্রতিনিধিদের মধ্যে।

বুধবার ২১ মে সেটি বাতিল করা হয়েছে বলে জিআরএসই’র পক্ষ থেকে ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সম্প্রতি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছুদিন আগে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (জিআরএসই) বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি অত্যাধুনিক ‘ওশান-গোয়িং টাগ’ বা বিশেষ ধরনের জাহাজ নির্মাণের অর্ডার দিয়েছিল।

প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলার বা ১৮০ কোটি ভারতীয় রুপির ওই অর্ডার পাওয়ার জিআরএসই’র শেয়ারও যথারীতি বেড়েছিল প্রায় ১০ শতাংশ। তবে এই অর্ডার পাওয়ার বছরখানেকের মাথায় বুধবার ওই জাহাজের অর্ডার বাতিলের খবর সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার সকালে কোম্পানিটির শেয়ারে বেশ বড়সড় ধাক্কা লাগে।

এদিকে, ওই জাহাজের অর্ডার কেন বাতিল করা হলো, তা নিয়ে বাংলাদেশের নৌবাহিনী বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, অর্ডারটি যে বাতিল করা হয়েছে, সেটি তাঁরাও জেনেছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত কেন বা কবে নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু বলতে পারছেন না!

তবে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকেরা ধারণা করছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নেওয়া বহু সিদ্ধান্ত বা আন্তর্জাতিক অর্ডার যেমন এর আগেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের এই অর্ডার বাতিল করার সিদ্ধান্তও সেই ধারাবাহিকতায় নেওয়া। বাংলাদেশ কেন অর্ডারটি বাতিল করেছে, সে বিষয়ে ভারতীয় সংস্থাটির পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি।

চুক্তি বাতিলের কারণ হিসেবে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোকে “স্থলবেষ্টিত সেভেন সিস্টার্স” এবং বাংলাদেশকে “এই অঞ্চলের একমাত্র সমুদ্র-অভিভাবক” হিসেবে আখ্যা দেন। এছাড়া তিনি এই অঞ্চল দিয়ে চীনের বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন, যা ভারত সরকারের আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ভারত সরকার তাদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ চুক্তি বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছে ভারত।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (জিআরএসই) সঙ্গে ১৮০ কোটি রুপির চুক্তি বাতিল করেছে। এই কোম্পানিটি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চালায়।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুর বিজনেস লাইনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ও এই কোম্পানিটির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অর্ডারটি বাতিল করা হয়েছে। কলকাতাভিত্তিক এ কোম্পানিটি ৮০০ টন ওজনের টাগ বোটটি তৈরির আদেশ পেয়েছিল বলে জানিয়েছে অপর সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বাংলাদেশ ভারতীয় কোম্পানিটিকে যে ওশান-গোয়িং টাগ নির্মাণের অর্ডার দিয়েছিল, সেটির দৈর্ঘ্য ৬১ মিটার এবং প্রস্থ ১৫.৮ মিটার হওয়ার কথা ছিল। এটির ডেপথ বা গভীরতা হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৭ মিটার। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘প্রতিরক্ষা কাঠামো’র সামর্থ্য বাড়ানোই ছিল এই জাহাজ কেনার উদ্দেশ্য।

পরিপূর্ণ লোড নিয়ে জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩ নটিক্যাল মাইল গতিবেগে যেতে পারবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা ছিল।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব ডিফেন্স পারচেজের সঙ্গে ভারতের এই জাহাজ নির্মাতা সংস্থাটির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ জুলাই।

ঠিক তার আগের মাসেই (জুন) তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দুবার ভারত সফরে এসেছিলেন— প্রথমে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, তারপর চীন সফরে যাওয়ার ঠিক আগে ভারতে আর একটি দ্বিপাক্ষিক সফরে।

২০২৩ সালে ঢাকা ও নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা খাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের লাইন অব ক্রেডিট (ঋণ সহায়তা) চুক্তি হয়। এটির আওতায় এই টাগ বোটটি ছিল প্রথম বড় কোনো ক্রয়াদেশ। ধারণা করা হচ্ছে, জুনের দ্বিতীয়ার্ধে‍ শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ই এই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছিল—যদিও তখন প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।

প্রসংগত, ওশান-গোয়িং টাগ হলো অত্যন্ত শক্তিশালী বিশেষ এক ধরনের জাহাজ, যা মাঝ সমুদ্রে বা উন্মুক্ত সাগরে বিপন্ন জাহাজকে ‘টোও’ (tow) করে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসতে পারে। এ ধরনের জাহাজ ‘টাগবোট’ নামেও পরিচিত। যে টাগবোটগুলো সাগর বা মহাসাগরে পাড়ি দিয়ে আটকে পড়া জাহাজকে উদ্ধার করতে পারে কিংবা জাহাজের ধ্বংসস্তূপ টেনে আনতে পারে— সেগুলোকেই বলে ওশান-গোয়িং টাগ।

টাগের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, নিজের আকারের তুলনায় অনেক বড় জাহাজকেও এটি টেনে আনার ক্ষমতা রাখে। সামনের দিকেও টেনে আনতে পারে, আবার পেছন থেকেও ধাক্কা দিতে পারে। পৃথিবীর সব বড় বড় বন্দর ও হারবারে টাগবোট একটি অপরিহার্য অংশ, বিশেষ করে বড় বড় জাহাজের ডকিং ও বার্থিংয়ের সময় এ ধরনের ছোট ও শক্তিশালী জাহাজের সাহায্যের দরকার হয়।
সূত্র – hindustantimes

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech