Breaking News:


শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে গোলাগুলির ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ হার না মানলে কঠোর আঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা কঠোর বার্তা তেহরানের চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, পুড়েছে পাওয়ার কার ও এসি বগি স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা মধ্যপ্রাচ্য সংকট: মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে দেশ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৩, অধিকাংশই নারী ও শিশু আজ স্বাধীনতা দিবস, বীর শহীদদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি মহান স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে: প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলে ৪০ মিনিটে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে দেশ

  • ১২:০১ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে দেশে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। কোভিড মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা ও ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

ভারত, তুরস্ক, শ্রীলংকাসহ অন্য দেশগুলো মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নামেনি। এর মধ্যে ইরানের ওপর ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রসন মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

জানা গেছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিতে থাকা ‘লাল’ শ্রেণি থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের নানা উদ্যোগে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও পাঁচ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ‘লাল’ অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্যনিরাপত্তার হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। অবশ্য গত নভেম্বর মাসের পর বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া বেশ উদ্বেগের বিষয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা দেশের আমদানির ওপর প্রভাব ফেলবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ মূল্যস্ফীতি কমাতে বেশ ব্যর্থ হয়েছে। সরক+ারি সংস্থার হিসাবেই সাড়ে ৮-৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, যা এমনিতেই অনেক বেশি। বাস্তবে মূল্যস্ফীতি আরও বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) হিসাব মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি। এর আগে গত বছরের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিল। এরপর খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে। একপর্যায়ে সাত অঙ্কের ঘরে নামে। পাঁচ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। তিন বছরের বেশি সময় ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি। এর আগে গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ এত দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তিতে পড়েনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হওয়ার মানে হলো, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আপনার খাবার কিনতে যদি ১০০ টাকা খরচ হয় হয়, তাহলে এক বছর পর চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাতে লাগল ১০৯ টাকা ৩০ পয়সা। প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বেড়েছে ৯ টাকা ৩০ পয়সা। এর মানে, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের খাবার খরচ প্রায় এক-দশমাংশ বেড়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংক ১০ থেকে ১২ মাসের খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে থাকে। সর্বশেষ ১০ মাস ধরেই বাংলাদেশ লাল তালিকায় আছে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ সংঘাতের প্রভাবে সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে এবং এ অবস্থা এক বছর স্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উৎপাদন দশমিক ১ থেকে দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলে ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও এখনও থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আইএমএফ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি আহ্বান জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি যেন জ্বালানি তেলের দাম থেকে অন্যান্য পণ্য ও সেবার খাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মনে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা যেন জেঁকে না বসে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে, যদি সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধি পুরো অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, দেশে তেলের মজুদ কম। এটা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তেলের দাম সমন্বয়ের কথা বলা হচ্ছে। এটি করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ বাড়বে। তেলের সংকট শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী রয়েছে। এখানে আমাদের কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। এর বিকল্প নেই। সূত্র-আ. স।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech