।।বিকে ডেস্ক।।
শারদীয় দুর্গোৎসবের চূড়ান্ত পর্ব ও সমাপ্তির আগের মহালগ্ন হলো মহানবমী। উৎসবের এই দিনটিতে থাকে লাগামহীন আনন্দ, মনের সুখে আরতি নিবেদন এবং ঢাকের তালে তালে নাচের উন্মাদনা। পরের দিনই বিজয়া তাই নবমীর সন্ধ্যা ও রাত যেন সব ক্লান্তি ভুলে পরিপূর্ণভাবে মেতে ওঠার সময়।
উৎসবের এই তুঙ্গ স্পর্শে নিজেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য করে তুলতে সাজসোজের মূল মন্ত্র হওয়া চাই গ্ল্যামার, জাঁকজমক ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গর্জিয়াস পোশাকটি পরার জন্য এই মহানবমীর সন্ধ্যাকে সেরা সময় হিসেবে বেছে নেন সবাই।

নবমীর পোশাকের বৈচিত্র্য: শাড়ির আভিজাত্য থেকে ফিউশন গ্ল্যামার
মহানবমীর রাতে নারীদের সাজে পরিপূর্ণ গ্ল্যামার ফুটিয়ে তুলতে পোশাকের বিকল্প হতে পারে হেভি বেনারসি, টিস্যু সিল্ক, কাঞ্জিভরম কিংবা গাঢ় রঙের টিস্যু বা নেটের জমকালো শাড়ি। এই ধরনের ভারী ও চকচকে শাড়িগুলো রাতের আলোয় এক জাদুকরী আভা ছড়ায়। যারা শাড়ির পাশাপাশি পশ্চিমা বা ফিউশন ধাঁচে সাজতে পছন্দ করেন, তারা বেছে নিতে পারেন ডিজাইনার লেহেঙ্গা, গর্জিয়াস পার্টি গাউন কিংবা স্টেটমেন্ট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফিউশন পোশাক। এই পোশাকগুলো নবমীর রাতের আধুনিক পার্টি বা আড্ডায় এনে দেয় এক অভিজাত ও ক্লাসি লুক।

বোল্ড মেকআপ ও কেশসজ্জা: রাতের আলোয় জাদুকরী রূপ
পোশাকের জাঁকজমকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নবমীর রাতের মেকআপ হওয়া চাই বেশ বোল্ড ও আকর্ষণীয়। মুখের নিখুঁত ও দীর্ঘস্থায়ী বেইজ মেকআপের সাথে হাইলাইটার এবং কন্ট্রোলিংয়ের নিখুঁত ছোঁয়া চেহারায় ধারালো ভাব আনে। চোখের মেকআপে গাঢ় স্মোকি আইজ, গ্লিটার কিংবা শিমারি আইশ্যাডো এবং টানা ডাবল উইংড আইলাইনার নবমীর গ্ল্যামার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঠোঁটে গাঢ় লাল, মেরুন, চকোলেট ব্রাউন বা ওয়াইন শেডের গর্জিয়াস লিপস্টিক এই লুককে সম্পূর্ণ করে তোলে। চুলে স্টাইলিশ সফট কার্ল, ওয়েভস কিংবা উঁচু ও পরিপাটি আলগা পার্টি খোঁপা নবমীর লুকে নিয়ে আসে এক নিখুঁত সেলিব্রেটি আমেজ।
গহনার জমকালো দ্যুতি ও স্টেটমেন্ট জুয়েলারি
গ্ল্যামারাস পোশাক ও বোল্ড মেকআপের সাথে মানানসই গহনা ছাড়া নবমীর সাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভারী বেনারসি বা কাঞ্জিভরম শাড়ির সাথে হীরের নেকলেস, ঐতিহ্যবাহী কুন্দনের সেট, পলকি কিংবা অ্যান্টিক গোল্ডের জমকালো গহনা দারুণ মানায়। অন্যদিকে ডিজাইনার লেহেঙ্গা বা পার্টি গাউনের সাথে স্টাইলিশ আমেরিকান ডায়মন্ড বা পার্লের স্টেটমেন্ট চোকার এবং বড় ঝুমকা বা কানের দুল পরলে রাজকীয় গ্ল্যামার তৈরি হয়। আঙুলে গর্জিয়াস রিং বা হাতে প্রিমিয়াম স্টাইলের ব্রেসলেট পুরো সাজে আভিজাত্যের চূড়ান্ত রূপ ফুটিয়ে তোলে।
পুরুষদের ফ্যাশন, এথনিক ও ইন্দো-ওয়েস্টার্ন স্টাইল
পুরুষদের ক্ষেত্রেও নবমীর রাতে সাধারণ পোশাকের গণ্ডি পেরিয়ে ওয়েস্টার্ন বা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। উৎসবের এই বিশেষ রাতে গর্জিয়াস কাট, ভারী কাজ ও এম্ব্রয়ডারি করা বন্ধগলা, শেরওয়ানি, জ্যাকেট সেট, কিংবা ক্লাসি অ্যাসিমেট্রিক কাটের পাঞ্জাবি পরলে দারুণ আকর্ষণীয় লাগে। এছাড়া করপোরেট বা মডার্ন লুক পছন্দ করলে ভালো ব্র্যান্ডের স্লিম-ফিট ব্লেজার, ট্যাক্সিকাডো বা ক্যাজুয়াল থ্রি-পিস স্যুট পরেও নবমীর জমকালো সান্ধ্যকালীন পার্টি ও আড্ডায় অংশ নেওয়া যায়।
পোশাকের সাথে মানানসই জুতোর নির্বাচন
পুরুষদের রাজকীয় বা ফিউশন পোশাকের সাথে জুতোর সঠিক নির্বাচন পুরো লুকে জাদুকরী পরিবর্তন এনে দেয়। গর্জিয়াস শেরওয়ানি, বন্ধগলা বা ভারী এম্ব্রয়ডারির পাঞ্জাবির সাথে পায়ে নিখুঁত কারুকাজ করা এথনিক নাগরা, মোজারি বা জারদৌসি কাজের জুতী সবচেয়ে ভালো মানায়। আবার যারা জ্যাকেট সেট বা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন কুর্তা পরছেন, তারা পায়ে পরতে পারেন প্রিমিয়াম লেদার মনক স্ট্র্যাপস, ক্লাসিক লোফার্স বা স্লিপ-অন জুতো। অন্যদিকে যারা ব্লেজার বা ক্যাজুয়াল স্যুট বেছে নেন, তাদের পায়ে স্টাইলিশ অক্সফোর্ড শু, ডার্বি শু কিংবা প্রিমিয়াম লেদার বুটস নবমীর এই গ্ল্যামারাস ও মডার্ন লুকে পূর্ণতা এনে দেয়। সূত্র- সারাবাংলা।