Breaking News:


যশোরে তীব্র শীতজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে ১০ জনের মৃত্যু

  • ০৭:৪৪ পিএম, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
চলমান মাঝারী শৈত্যপ্রবাহে যশোরে শীতজনিতসহ বিভিন্ন রোগে অসুস্থ দশজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে তারা মারা যান। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

শুক্রবার ৯ জানুয়ারি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯০ রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে ৫৪ জন শিশু।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঠাণ্ডার কারণে বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই বাড়িতে এবং বাইরে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুসপ্তাহ ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনে কুয়াশা ও বাতাসে শীতের দাপট রয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালে মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে মো. শামছুজ্জামান জানান, ঠাণ্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।

মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এ ছাড়া, গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচণ্ড শীতে তিনি ১০ দিন অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেখ মামুনের বাড়ির পাশেই উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা মারা গেছেন। তার ছেলে বনি বলেন, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছিল না। যে কারণে তিনি মারা গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় যশোরে শীতের প্রকোপ এখন চরমে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একদিনে দশজনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাটা হয়ত একটু বেশি। তবে তারা সবাই শীতের কারণে মারা যায়নি। তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল। ফুসফুসে সংক্রমনসহ বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech