।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার ৩ জানুয়ারি ভোরে বিমান হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকো লাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিনবাহিনী।
শনিবার ৩ জানুয়ারী এ ঘটনার পর পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। খবর বিবিসির।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটি এই হামলাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী স্পষ্ট আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একই সঙ্গে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের সদস্য একটি স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যার পরিণতি সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে। এ ধরনের হামলা জাতিসংঘ সনদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ক্ষয় ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরান মনে করে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সব রাষ্ট্রকে এই হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানানো উচিত। এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানান, মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য ‘কোনওভাবেই জড়িত ছিল না।’ নিকোলাস মাদুরোকে ‘আটক’ করার বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথাও বলেননি।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের জন্য রেকর্ড করা মন্তব্যে স্টারমার বলেন, ‘না, আমি তা করিনি এবং এটি স্পষ্টতই একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং আমাদের সমস্ত তথ্য যাচাই করতে হবে।’
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ এবং নিন্দা’ জানিয়েছেন।
হামলার ঘটনায় জাতিসংঘকে ‘অবিলম্বে বৈঠক’ করার আহ্বান জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুতাভো পেত্রো। ভেনেজুয়েলা সীমান্তে বাহিনী মোতায়েনের খবরও জানিয়েছেন তিনি।
কিউবার প্রেসেডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানান, তার দেশ ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধমূলক আক্রমণের নিন্দা জানায় এবং জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া আশা করে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী কমলা পারসাদ-বিসেসার বলেন, ‘ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ভেনিজুয়েলার জনগণের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।’
এ ছাড়া ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
এদিকে, নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং দেশের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো। তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স বলেছে, ‘এই আক্রমণ সম্পর্কে বিশ্বের কথা বলা উচিত।