Breaking News:


শিরোনাম :
৪৮৩.৪৩ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দাপ্রধান নিহত এসএসসিতে বাড়তি নম্বর দিলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী গাজীপুরে মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন সংসদে ‘ভোটার তালিকা সংশোধন বিল ২০২৬’ পাস দেশে হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮২ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে ‘আরও ভয়াবহ’ প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই- সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ফরিদপুরের কৃষকদের ডিজেল সংগ্রহে ৪টি পাম্প নির্ধারণ করে দিল প্রশাসন

শান্তির জন্য পুতিনের শর্তানুযায়ী ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রাশিয়াকে দেওয়ার পক্ষে ট্রাম্প

  • ১১:২৬ এএম, সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব সামনে এসেছে বলে জানা গেছে।

রবিবার ১৭ আগস্ট পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস গত শনিবার জানিয়েছে, ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিতে রাজি হন, তবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তিন বছরের বেশি যুদ্ধ চললেও রুশ বাহিনী পুরো অঞ্চল দখল করতে পারেনি।

ইউরোপের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আলাস্কায় বৈঠকের সময় ভ্লাদিমির পুতিন শর্ত দেন— যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইউক্রেনকে ডনবাস থেকে সরে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে প্রস্তাব দেন, ফ্রন্টলাইনের বাকি অংশে যুদ্ধবিরতি টানা হবে।

ট্রাম্প খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ডনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির চেয়ে শান্তি চুক্তিই বেশি কার্যকর, কারণ যুদ্ধবিরতি “অনেক সময় স্থায়ী হয় না”। শনিবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়াসহ একাধিক শর্ত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিনিময়ে কিছু এলাকায় সামরিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠকে এ প্রস্তাবের বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে জানিয়েছেন দুই কূটনৈতিক সূত্র। শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও রুশ প্রেসিডেন্টের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।

সূত্রগুলো জানায়, রাশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনীয় সেনাদের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে। বিনিময়ে দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেবে রাশিয়া।

তবে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দোনেৎস্ক ছাড়তে রাজি নয়। তাদের মতে, ওই অঞ্চলে সেনাদের শক্ত অবস্থান ইউক্রেনের গভীরে রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে সহায়ক।

আলাস্কা বৈঠক নিয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি। ইউক্রেনকে এতে রাজি হতে হবে। তারা হয়তো ‘‘না’’ করে দিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের ভূমি ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর সঙ্গে পুতিনের ‘বড় ঐকমত্য’ হয়েছে। তবে বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্রগুলোর মতে, শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে পুতিন ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চাইছেন। যদিও কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো এখনো এ দাবি প্রত্যাখ্যান করছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া।

আরও জানা গেছে, পুতিন চান রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। যদিও এসব ইউরোপীয় না মার্কিন নিষেধাজ্ঞা—তা পরিষ্কার নয়। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্তও দিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কিছু দিক নিয়ে রাশিয়া সমঝোতায় যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ ছাড়া ইউক্রেনের ভেতরে রুশ ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেওয়া এবং রুশ অর্থোডক্স গির্জাকে অবাধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রাখার দাবিও তুলেছে মস্কো। তবে কিয়েভের নিরাপত্তা সংস্থা অভিযোগ করেছে, এই গির্জা রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রচার চালায়। যদিও গির্জা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা মস্কোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সম্পূর্ণ সমঝোতা না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।’ এতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অন্যতম দাবি থমকে যাচ্ছে। এদিকে ইউক্রেন প্রতিদিনই রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারা “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ইউরোপের সমর্থনে একটি ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে কাজ করতে প্রস্তুত”। তবে তারা স্পষ্ট করে দেন, “ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইউক্রেনেরই। আন্তর্জাতিক সীমানা বলপ্রয়োগে পরিবর্তন করা যাবে না।”

ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। একটি স্থায়ী ও বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা শুধুই রুশ আগ্রাসনের মধ্যবর্তী আরেকটি বিরতি নয়।”

শনিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া সরাসরি শান্তি চুক্তির পথে এগোনোর চেষ্টা “পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে”।

সোমবার জেলেনস্কি ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে রাশিয়ার শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech