।।বিকে রিপোর্ট।।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী বা স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার ২৪ জুন বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি তারা।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২৪টি মামলার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাকেই মনে করা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মামলার অপর দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতাকে হত্যায় উসকানি, মারণাস্ত্রের ব্যবহারসহ পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
লাশ পোড়ানোর মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থালাশ পোড়ানোর মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। আসামিদের মধ্যে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
আর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন। বিজ্ঞপ্তি পেপার প্রকাশিত হয়েছে এবং সেটা নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। তারপরও আদালতে হাজির না হওয়ায়, তাদের পক্ষে রাষ্ট্রকে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিলেন ট্রাইব্যুনাল।
শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন চিফ প্রসিকিউটরের আইনি পরামর্শক ও ব্রিটিশ আইনজীবী টোবি ক্যাডম্যান। তিনি বলেন, ‘আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পূর্ণ এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কোন আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া যায়, সেটা ট্রাইব্যুনালেরই বিবেচ্য বিষয়। এখানে প্রসিকিউশনের কোনো দায়িত্ব নেই।
এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে আগামী ২ জুলাই।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আরও বলেন, এ পর্যায়ে অভিযোগ গঠনের উপর শুনানি শুরু করা যেতে পারে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন এই মামলার কারাগারে থাকা অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আজ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের মামলাটিও ট্রাইব্যুনালে ওঠে। এ মামলায় হাজির করা হয় আরেক আসামি সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে। পরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও দুই মাস সময় বাড়িয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।