Breaking News:


সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলায় পাঁচজন আটক

  • ০৯:৪৭ পিএম, শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

শুক্রবার ৮ আগস্ট দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানার ওসি শাহিন খান বলেন, ‌‌‌ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের কাউকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি। সন্দেহবশত তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরের বাসন থানায় নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে থানায় সন্দেহভাজন ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় জড়িত সন্দেহে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। এরপর রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে নগরীর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিক তুহিনের ময়নাতদন্ত শেষে বাদ জুমা চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজরা তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

সাংবাদিক তুহিন খুন হওয়ার স্থান থেকে প্রায় এক’শ গজের মধ্যে পুলিশ বক্স থাকলেও পুলিশ আসার আগেই সন্ত্রাসীরা তুহিনকে খুন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের একটি সূত্র দাবি করে, ফুটেজে দেখা যাওয়া সন্ত্রাসীরা হলেন- চান্দনা চৌরাস্তা (চান্না) এলাকার কেটু মিজান, তার সহযোগী শাহ জামাল, বুলেট ও সুজন। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী বলে তাদের দাবি।

এই হত্যার ঘটনায় সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। দ্রুত বিচার ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবি উঠেছে সর্বস্তর থেকে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে গাজীপুরে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে।

সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের উদ্যোগে শুক্রবার সকালে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে নারীর সঙ্গে যুবক বাদশা মিয়ার ধস্তাধস্তি হয়েছিল সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি দাবি করেন, ওই নারী একটি দলের অংশ। ওরা আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। আমি তাদের চিনতাম না।

শুক্রবার বাদ জুমা চান্দনা চৌরাস্তা দর ঈদগাহ মাঠে প্রথম জানাজা শেষে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নিজ গ্রাম ভাটিপাড়ায় বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) অতিরিক্ত কমিশনার অপরাধ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, পুলিশের একাধিক টিম দুটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কিছু আসামি শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই শনাক্তকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব। দোষীদের আটক করা গেলে ঘটনার পুরো চিত্র পরিষ্কার হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech