Breaking News:


১৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকার বৈদেশিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার

  • ১১:৫৬ এএম, শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গত এক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বৈদেশিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর মধ্যে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা । আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বকেয়া ছিল ৭ হাজার ৯৩৪.৮৯ কোটি টাকা। সেখান থেকে বর্তমানে বকেয়া রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৩৬৩.৫০ কোটি টাকা।

শুধু বকেয়া পরিশোধই নয় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি তারা  বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৬ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রনালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তরল জ্বালানি ভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি আমদানির সার্ভিস চার্জ ৯ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার মাধ্যমে ৪৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তরল জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি শিপমেন্টে ১৫ হাজার মেট্রিক টন এর পরিবর্তে ২০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণের ফলে ৩৫৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ ৮.৪৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের বর্তমান গড় বিক্রয় মূল্য ৮.৯৫ টাকার চেয়ে কম। এ কার্যক্রমের ফলে বছরের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এছাড়াও অন্যান্য বিদ্যুত কেন্দ্রের ট্যারিফ হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দশটি  মেয়াদোত্তীর্ণ ও পুরাতন আইপিপি তথা রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবসর প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারের ৫২৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ২৬৩০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর ৬ শতাংশ উৎসে কর কমানোর লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্থাপনা ভাড়া, এলডি আদায় ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯২১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে।

এছাড়া ২০২৫ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ পরিবর্তন সাপেক্ষে অনুমোদিত হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ পরিমার্জন করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার অনুমোদন গ্রহণ করা হয়েছে। পরিমার্জিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ গত ১৬ জুন বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় সকল সরকারি অফিস এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ছাদে ওপেক্স বা কেপেক্স মডেলের রুফটপ সোলার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২০০০ থেকে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। এছাড়াও নেট মিটারিং গাইড লাইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড  (বাউবি) থেকে বড় পুকুরিয়ায় ২০ মেগাওয়াট, রাঙ্গুনিয়ায় ৫০ মেগাওয়াট, এবং কাপ্তাইয়ে ৭.৬ মেগাওয়াট ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ দূষণ হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্জ্য (মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্ট) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ছে।

আইএসডিই অর্থায়নে ইজিসিবি কর্তৃক সোনাগাজীতে ৩২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া কেএফডব্লিও-এর অর্থায়নে আরপিসিএল থেকে গজারিয়ায় ১০ মেগাওয়াট ব্যাটারি স্টোরেজসহ ৬৫ মেগাওয়াট সোলার স্টোর যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানুয়ারি-জুন,২০২৪ এবং জানুয়ারি-জুন,২০২৫ সালের ফ্রিকোয়েন্সির তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফ্রিকোয়েন্সি নরমাল রেঞ্জে (৪৯.৫-৫০.৫ এইচজেড) থাকার সময়কাল পূর্বের তুলনায় ১৮৭৬ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি হ্রাসে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর  যেখানে ভর্তুকির চাহিদা ছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা, সেখানে এ বছর তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকায়। সংকলিত।।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech