।।বিকে রিপোর্ট।।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রোম-ঢাকা ফ্লাইট (বিজি ৩৫৬) বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার ১০ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিকল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ।
২৬২ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকাগামী ফ্লাইট বিজি-৩৫৬ গতকাল রবিবার বিকেলে উড্ডয়নের প্রস্তুতিকালে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে অচল হয়ে পড়ে। উড্ডয়নের আগে শেষ মুহূর্তে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটির ডানার ফ্ল্যাপ বিকল হয়ে পড়ে, ফলে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রাখা হয়। ফলে যাত্রীদের রাত কাটাতে হচ্ছে হোটেলে, আর শিডিউল বিপর্যয়ে ভুগছে বিমান।
বিমানের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উড্ডয়নের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও পাইলট চূড়ান্ত পরীক্ষা করার সময় ডানার ফ্ল্যাপ কাজ করছে না দেখতে পান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের জানানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন ২৬২ যাত্রী, যাদের মধ্যে ১৫ জন বিজনেস এবং ২৪৭ জন ইকোনমি ক্লাসের। পরে তাদের ও ক্রুদের হোটেলে পাঠানো হয়।
যাত্রীদের খাবার ও পরিবহন খরচসহ বিমানকে অতিরিক্ত বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হবে বলে জানা গেছে। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও সংযোগ ফ্লাইট মিস করার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবিএম রওশন কবীর জানান, ত্রুটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ লন্ডন থেকে আনা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যায় রোমে পৌঁছাবে। মেরামত শেষে একই উড়োজাহাজে যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, বিকল্প কোনো ফ্লাইট দেওয়া হবে না।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজটিতে ঢাকা থেকেই একটি স্পয়লার ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে অবতরণের পর আরও একটি স্পয়লারেও সমস্যা ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, ফ্ল্যাপ গুটানো ক্যাপ্টেনের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না-সেগুলো আটকে গেছে।
বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুটি স্পয়লারই যদি বিকল হয়, তবে ফ্লাইট চালানো যাবে না। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী এটি ‘‘চলাচল অযোগ্য’’ (নো গো) পরিস্থিতি।’
এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিআইপিদের জন্য একটি ফ্লাইট সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য একটি ফ্লাইটে প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ঢাকার ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, এই বিপর্যয় সামলাতে আগামী কয়েক দিন অন্য রুটের ফ্লাইটও প্রভাবিত হতে পারে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো বহরের কারণে বিমানের কারিগরি সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকায় বিদেশে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় না। এতে আর্থিক ক্ষতি যেমন হয়, তেমনি দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।