।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় শাটডাউনে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। এর আগে গত অক্টোবরে একবার শাটডাউনে পড়েছিল দেশটি। তহবিল আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত জটিলতার জেরে আবারও শাটডাউনে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এএফপির বরাতে জানা গেছে, সরকারি খাতগুলোতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্যাকেজ সময়মতো পাস না হওয়ায় শুরু হয়েছে এই জটিলতা।
যুক্তরাষ্ট্রের রীতি অনুযায়ী, যে কোনো বিল দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্ন ও উচ্চ— উভয়পক্ষে পাস হওয়ার পর তা প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যায়। সেখানে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করার পর তা আইন হিসেবে কার্যকর হয়।
আর্থিক বরাদ্দের বিলটি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানোর ডেডলাইন ছিল গতকাল শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু এএফপির বরাতে জানা গেছে, বিলটি সবে সিনেটে পাস হয়েছে, এখনও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষেদ পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারেনি।
এদিকে কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিনোসেটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন অ্যালেক্স প্রিটি নামের এক মার্কিন নাগরিক। এ ইস্যুতে ব্যাপক উত্তাপ চলছে দেশটির সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধী দলের মধ্যে।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক মাত্রায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোমল্যান্ড সিকিউরির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় অভিযান।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার ঘোর বিরোধিতা করছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টির এমপিদের সংখ্যা বেশি। বরাদ্দ বিলটি সিনেটে পাস হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সিনেটের বিরোধী দলীয় নেতা চাক শুমার বলেছেন, ট্রাম্প যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত বাজেট প্রত্যাহার না করেন— তাহলে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এ বিল কীভাবে পাস হয়— তা তারা ‘দেখে নেবেন’।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষকরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন রিপাবলিক ও ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপিরা এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিলটি পাস হয়ে ‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি কেটে যাবে।
কোনো জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি-বেসরকারি-স্বায়ত্বশাসিত বিভিন্ন খাতে যদি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত বরাদ্দ আটকে যায়— তাহলে তাকে মার্কিন পরিভাষায় ‘শাটডাউন’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ১৮ বার এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ শাটডাউন হয়েছিল গত বছর অক্টোবরে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি