।।বিকে রিপোর্ট।।
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতার দাবি আদায়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও ‘সুযোগ সন্ধানীদের’ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় তা স্থগিত করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তিন দফা দাবি আদায়ে ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি স্থগিত করে শুক্রবার থেকে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। একইসঙ্গে শ্রেণি কক্ষে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় শহীদ মিনারে এ ঘোষণা দেন শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।
অন্যদিকে শিক্ষকদের আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর বেশি বাড়ানো সম্ভব না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য জানান তিনি।
সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষকদের উত্থাপিত তিন দফা দাবির বিষয় নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন বৈঠক শেষে অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটা সময়ে আছি, বাজেট বরাদ্দ উপলক্ষে প্রক্রিয়া শেষ। এখন বাড়তি যেটা চাওয়া হচ্ছে সেটা কতটুকু সংস্থান করতে পারি তার ওপর নির্ভর করছে। কাজেই আমরা সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। যখন রাস্তায় আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে। পরবর্তীকালে অর্থ মন্ত্রাণালয় থেকে আমাদের জানানো হলো যে, তারা পহেলা নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ হারে তারা দিতে পারবেন এবং ন্যূনতম যেটা হতে পারে সেটা হচ্ছে যে, দুই হাজার টাকা থাকবে।
এইটা তাদের (শিক্ষকদের) অফার করলাম, এই দাবিটা যদি দৃঢ়তার সঙ্গে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে করতেন এবং যে হিসাব-নিকাশ করা হয়েছিল সেটা যদি আমাদের দিতেন, তাহলে আমরা সময় পেতাম। তখন অবশ্যই বাজেট নির্ধারণের আগেই আমরা তাদের (শিক্ষকদের) দিতে পারতাম। এখন যা পাচ্ছি তার চেয়ে বেশি পেতাম। যৌক্তিকতা (শিক্ষকদের দাবি) তো অনস্বীকার্য। এখন যেখানে টাকা নেই সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব নয়, হচ্ছে না।
আমরা আরেকটি কথা বলেছি (শিক্ষকদের) সামনে বছর বাজেটে আরও কিছু শতাংশ বৃদ্ধি যদি করা যায়, তাহলে সেটার জন্যও আমরা সুপারিশ করবো।
তিনি বলেন, অর্থবিভাগকে বলবো আপনারা এখন পারছেন না ঠিক আছে, সামনের বছরের জন্য আপনারা কমিটমেন্ট দেন, যাতে এই দাবির যে যৌক্তিকতা সেটাকে স্বীকার করে নেওয়া হবে এবং তারাও ধৈর্য্য ধরবেন। কিন্তু তারা সেই প্রস্তাবে রাজি না। তারা বোধহয় বলেছেন ১০ শতাংশ এখন দিতে হবে, আবার সামনের বছর ১০ শতাংশ দিতে হবে। অবশ্যই সেটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। আমরা সেটা রাজি হয়নি। এই হচ্ছে আমার দিক থেকে ব্ক্তব্য।
আমরা তাদের (শিক্ষকদের) বার বার বলেছি এই দাবির যে সারাংশ সেটাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এই বাস্তবতায় আপনারা সেটা গ্রহণ করেন। জনদুর্ভোগ হচ্ছে, সামনে পরীক্ষা, আপনারা যদি এই কর্মসূচি করতে থাকেন সেটা সঠিক হবে না।’
সচিব আরও বলেছেন, উনারা (শিক্ষকেরা) বলেছেন যে, আমরা গুরুত্ব দেইনি, বিষয়টা সেরকম না। শুরু থেকেই স্যার বলেছেন, আমরা অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। হিসাব-নিকাশ দেওয়ার বিষয় ছিল সেটুকু আমরা জানিয়েছি।
এদিকে শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, শুক্রবার আমরা অনশন করবো। তারপর আমরণ অনশন। তারপরও যদি আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমাদের দেহ জীবিত যাবে না। লাশ যাবে। অধিকারের বিষয়ে আপস করবো না।
আগামী রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শ্রেণির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আজকের জন্য যমুনা অভিমুখী কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তবে ২৪ ঘণ্টা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীকাল দুপুর ২টা থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু হবে। আমরা আমরণ অনশনে যাবো। অনশন করতে করতে আমরা শিক্ষকরা এখানেই মৃত্যুবরণ করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাব না, আমাদের লাশ এখান থেকে যাবে।