Breaking News:


৬ মাসে ২ লাখ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ ছাড়ালো ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

  • ১১:০০ এএম, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: প্রতিকী

।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশের ব্যাংক খাতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে, যা নজিরবিহীন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এতে আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আবার ঋণ খেলাপি হওয়ার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণেও দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

খেলাপি ঋণের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের দিন থেকেই ওই ঋণকে খেলাপি বা বকেয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর মানে হলো, এখন থেকে কোনো ঋণগ্রহীতা তিন মাস কিস্তি পরিশোধ না করলেই তিনি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবেন। আগে কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯ মাস পর কোনো ঋণকে খেলাপি করা হতো। নীতিমালার এ পরিবর্তনের ফলে খেলাপি ঋণের হিসাবে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চে নন-পারফর্মিং ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এক বছর আগে গত বছরের জুনে এ হার ছিল মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

চলতি বছরের জুনের শেষে মোট ঋণ ও অগ্রিম দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখ না করলেও ত্রৈমাসিক হিসাব অনুযায়ী, বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশই খেলাপি।

গত বছরের জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

তাদের মতে, গত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, প্রতারণা ও দুর্বল নজরদারির ফলেই খেলাপি ঋণের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল রেকর্ড ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর এই হার কমতে কমতে ২০১১ সালে নেমে আসে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। তারপর থেকে নন-পারফর্মিং ঋণ আবার বাড়তে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ যে হারে বাড়ছে, এটি শুধু ব্যাংক খাতে নয়, সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ, এর ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে অস্বস্তিতে পড়ছে; নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প-কারখানার সম্প্রসারণ স্তিমিত হয়ে কর্মসংস্থানও পড়ছে হুমকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ ঋণ আদায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন তাঁরা। তথ্য সহায়তা: মানব জমিন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech