Breaking News:


শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ মার্কিন বিমানকে নিজ আকাশসীমা ব্যবহারের ‘অনুমতি দেয়নি’ সৌদি আরব ও কুয়েত বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে শাস্তি পেলেন ক্রিকেটারসহ ৫ জন সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা ইরানে আক্রমণাত্মক অভিযান শেষ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মায়ের দাফন সম্পন্ন বালাকোট ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব – মাওলানা এটিএম মা’ছুম নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় শুভেন্দুর সহকারী সহ নিহত ৫: একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসনে পশ্চিমবঙ্গ!

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতিসংঘে শতাধিক প্রতিনিধি : টিআইবির হতাশা

  • ১২:০৬ পিএম, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি নথি অনুযায়ী, নিরাপত্তা দল ও কর্মকর্তাসহ এবার তাঁর সফরসঙ্গীর তালিকায় রয়েছেন ১০৪ জন।

তবে সফর-সংক্রান্ত পুস্তিকা অনুযায়ী এ সংখ্যা ৬২। সফরসঙ্গীদের মধ্যে উপদেষ্টাদের পাশাপাশি রয়েছেন তিনটি রাজনৈতিক দলের ছয়জন নেতা।

তবে এবারের অধিবেশনে শতাধিক প্রতিনিধি প্রেরণকারী ব্যতিক্রমী দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড অব্যাহত রাখায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার ২৫ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই হতাশার কথা জানান।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশাল আকারের প্রতিনিধিদল পাঠানো অতীতে একটি লজ্জাজনক চর্চায় পরিণত হয়েছিল, যা কোনো কোনো সময় দুই শতাধিকও পৌঁছেছে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকার থেকে আশা ছিল এই অপচয় বন্ধ হবে। কিন্তু এবারও শতাধিক প্রতিনিধি পাঠিয়ে হতাশ করেছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, গত বছর ৫৭ জন প্রতিনিধি প্রেরণ করে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

এবার তার উলটোটা হলো। আমরা জানতে চাই, এই বড় প্রতিনিধিদল গঠনের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে? তাদের কার কী ভূমিকা থাকবে? জাতিসংঘের আলোচ্য বিষয়গুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কতটুকু? জনগণের টাকায় বিদেশ সফর করলে এর ফলাফল ও জবাবদিহি থাকা উচিত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের নির্ধারিত বক্তৃতার সময় সফরসঙ্গীদের মধ্যে কয়েকজনের উপস্থিতির সুযোগ থাকে।

টিআইবি বলছে, সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোই কেবল বড় দল পাঠিয়ে কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তবে এসব দেশেও শতাধিক সদস্যের দৃষ্টান্ত বিরল। নাইজেরিয়ার মতো সুশাসনহীন দেশগুলো ভ্রমণবিলাসের জন্য এ ধরনের দল পাঠায় বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদেশ সফরের ব্যয় হ্রাসে একটি পরিপত্র জারি করেছিল। কিন্তু সেই পরিপত্রের সঙ্গে শতাধিক সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের প্রেরণ পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এটি সরকারের অবস্থান নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।


উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন উপলক্ষে তৈরি পুস্তিকা অনুযায়ী সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৬২। আর সরকারি নথি অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০৪। দুই তালিকাতেই যুক্ত আছেন চার উপদেষ্টা-আসিফ নজরুল, মো. তৌহিদ হোসেন, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও আদিলুর রহমান খান। উপদেষ্টা পদমর্যাদার দুজন হলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার একজন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এবার প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর তালিকায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন ১৯ জন ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন ৪৭ জন।

এছাড়া সফরসঙ্গী তালিকায় রাজনৈতিক নেতারা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সদস্য মোহাম্মদ নকিবুর রহমান (তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হয়েছেন), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা।

বিগত রাজনৈতিক সরকারগুলোর সময়ে সাধারণত এ ধরনের সফরে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও পছন্দের লোকজন যেতেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরাও নিজ খরচে সফরে যুক্ত হতেন।

প্রসংগত, বিশাল বহর নিয়ে বিদেশ ভ্রমন সংক্রান্ত তথ্যে জানা যায়, টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে জাতিসংঘের প্রায় প্রতিটি অধিবেশনে সরকারপ্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি প্রতিবারই বিশাল বহর নিয়ে নিউইয়র্কে যেতেন। শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে ২২৭ জনের একটি দল নিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশন এবং টেকসই উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ১৭৮ জন এবং ২০১৩ সালে ১৩৪ জনকে নিয়েও তিনি জাতিসংঘের সম্মেলনে গিয়েছিলেন। এসব সফরে বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরে গেলে বিমান বাংলাদেশের উড়োজাহাজ ভাড়া করতেন সরকারি টাকায়। বিশাল বহর নিয়ে তিনি বিদেশ সফরে যেতেন। ক্ষমতার শেষের পাঁচ বছরে তার বিদেশ সফরের জন্য ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮টি ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব সফরে তিনি বিদেশে গিয়ে আরও ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরও তেমনি বিশাল বহর নিয়ে ভ্রমনের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে জনতার মনে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech