।।বিকে রিপোর্ট।।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা।
শুক্রবার ২৬ সেপ্টেম্বর (স্থানীয় সময়) নিউ ইয়র্কে এক হোটেল স্যুইটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপ, বলকান ও আফ্রিকার একাধিক সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক উপ–সভাপতি ইসমাইল সেরাজেলদিন, মানবাধিকার সংগঠন রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিনিধিরা।
নেতারা ড. ইউনূসের আজীবন দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তারা বলেন, আমরা এখানে আপনার এবং বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছি। আমরা সম্পূর্ণভাবে আপনার সমর্থনে।
তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করলেও, ১৬ বছরের শোষণ ও দুর্নীতির পর দেশের সামনে থাকা কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। কয়েকজন নেতা আন্তর্জাতিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং যে কোনো সহযোগিতায় প্রস্তুতির কথা জানান।
কেরি কেনেডি বলেন, “মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আপনি যে অগ্রগতি করেছেন তা অসাধারণ।” জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেলান ভেরভিয়ার জানান, ইনস্টিটিউট শীঘ্রই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে।
এনজিআইসি–এর কো–চেয়ার ইসমাইল সেরাজেলদিন বলেন, “আপনাদের প্রয়োজনে আমরা আছি।”
অভূতপূর্ব এই আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আপনাদের একত্রিত হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি গভীরভাবে মুগ্ধ।” তিনি ১৫ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে “রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান” উল্লেখ করে দেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “মানুষ অল্প সময়ে অলৌকিক পরিবর্তনের আশা করে, কিন্তু আমাদের সম্পদ সীমিত। তবুও তরুণদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।”
ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে দিকনির্দেশনা, নৈতিক শক্তি ও সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামী গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) কো–চেয়ার ভাইরা ভিকে–ফ্রাইবারেগা। সভায় এসডিজি কো–অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন। সংকলিত।