।।বিকে রিপোর্ট।।
পাহাড়ে হঠাৎ করে অশান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যা মানুষকে নানাভাবে ভাবিয়ে তুলছে এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম দিচ্ছে। একই সময়ে গার্মেন্টস সেক্টরেও অশান্তির চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে- বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমাবর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে গভীর চক্রান্তের শংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে অনেক চক্রান্তকারী সক্রিয় রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে চায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে জাতিগত সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এসব চক্রান্ত প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রায় ৩৫ হাজার পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা নজরদারি করছেন এবং নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদিন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং পূজা নির্বিঘ্নে পালনের বিষয়ে বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন।
তিনি সকল গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক দলকে পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবে আপনাদের অবশ্যই সতর্কতার সাথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। সকলকে নিশ্চিত করতে হবে কেউ যাতে কোনো উস্কানিমূলক কাজ করতে না পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, পাহাড়ে হঠাৎ করে অশান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এসব বিষয় মানুষকে নানাভাবে ভাবিয়ে তুলছে এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম দিচ্ছে। এই সময়েই গার্মেন্টস সেক্টরেও অশান্তির চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনো চক্র জড়িত রয়েছে।
সেজন্য আমাদের প্রত্যেককেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশবিরোধী যদি কোনো চক্রান্ত বা মাস্টারপ্ল্যান থেকে থাকে, তাহলে আমাদের সবাইকে তা ব্যর্থ করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, জামায়াতের এক নেতার বক্তব্যে মানুষকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। ‘জামায়াত নেতার ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার’ কথার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। বড় ধরনের কোনো গেম প্ল্যান কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। জামায়াত একটি ভয়ংকর নীল নকশার মধ্যে রয়েছে। এটি রাষ্ট্রবিরোধী কথা। এতে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার ইঙ্গিত রয়েছে।
তিনি বললেন— পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের আক্রমণ করতে পারে, যুদ্ধ হতে পারে— এই কথাগুলো কেন আসছে? এটা কি কোনো পাতানো বিষয়? হ্যাঁ, আমাদের অনেক অমীমাংসিত বিষয় আছে— পানি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যদিয়ে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু আক্রমণের আশঙ্কা কেন ছড়ানো হচ্ছে? এটাও মানুষকে ভাবাচ্ছে যে, বিষয়টি কি পরিকল্পিত? এমন বক্তব্য দেশের জন্য বিপজ্জনক ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ববিরোধী।
তিনি আরও বলেন, আমরা একসময় একটি ফ্যাসিবাদের পতন দেখেছি। কিন্তু আজ আবারও নতুন করে মাটির ভেতর থেকে, পাতাল থেকে, আরেকটি ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কি না— সেটি আজ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু কর্মকাণ্ড সে আশঙ্কাকে উসকে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেককেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত বা মাস্টারপ্ল্যান, যেকোনো অশুভ পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে হবে।
এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তর সংযুক্ত) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।