শিরোনাম :
ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে নিহত ৩৪ জন, নিখোঁজ ৮ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস দিলেন মার্কিন দূত ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে – মির্জা ফখরুল কেওক্রাডং পাহাড়ের খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ, ন্যাটোর যুদ্ধবিমান মোতায়েন চামড়া শিল্পের উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতায় পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র ঢাকা ও আশপাশে আকাশ মেঘলা থাকতেপারে,সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই: আইন উপদেষ্টা

  • ০২:৩২ পিএম, শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার সেফ এক্সিট (নিরাপদ প্রস্থান) দরকার নেই বলে জানালেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার ১১ অক্টোবর রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের হলরুমে অনুষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন এখন সেফ এক্সিট (নিরাপদ প্রস্থান) নিয়ে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা উপদেষ্টারা খুব নিশ্চিতভাবে জানি, আমাদের কারও কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই।

আমরা গত ৫৫ বছর যে দুঃশাসন দেখলাম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখলাম; আমরা দেখলাম ব্যাংক লুট করে সাধারণ মানুষের আমানত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ অসুস্থ আত্মধ্বংসী রাষ্ট্র কাঠামো থেকে আমাদের সেফ এক্সিট প্রয়োজন।

আসিফ নজরুল বলেন, ভালো আইন করা মানেই পুরো দেশটা পরিবর্তন হয়ে যাবে এটা আশা করার বয়স আমার নাই। আইন করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার সংখ্যা কম। তবে প্রতিষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতা সীমাহীন। কারণ অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ভালো আইন হচ্ছে একটি ভিত্তি। কিন্তু এটি নিয়ে বেশি আশার করার কিছু নেই। আশা করবো হিউম্যান রাইটসের যে আইনটা হয়েছে, সেটি যেন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে বলা হয়েছিলো যে রাষ্ট্রপতি বিচারপতিকে স্বাধীনভাবে নিয়োগ করবেন যেন এতে রাজনৈতিক প্রভাব না থাকে। কিন্তু সবাই জানেন রাষ্ট্রপতি কখনই স্বাধীনভাবে বিচারপতিকে নিয়োগ করতে পারেননি। এদেশে সবসময় বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এমন প্রধান বিচারপতিও পেয়েছি যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্র ধ্বংস করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যারা নিজের চোখে গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখেও তা উপেক্ষা করেছেন। যে সকল বিচারক মানবাধিকার লংঘনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে তাদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বলেন, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ আদালত এবং সংসদীয় কমিটি। শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে হিউম্যান রাইটস কমিশন,’ যোগ করেন আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, আমরা ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম এর পথে কিছুটা অগ্রসর হয়েছি, পুরোটা করতে পারি নাই। পরের যারা নির্বাচিত সরকার হবেন, তাদের কাছে এই দায়িত্বটা থাকলো।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর পাশাপশি আরও বক্তৃতা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এটর্নী জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রেড রেংগলি, ড্যানিশ দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন এন্ডার্স বি. কার্লসেন, ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলারসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আইন, বিচার এবং নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা রোমানা শোয়েগার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech