।।বিকে রিপোর্ট।।
যশোরের ভবদহের মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামে একটি মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ১ হাজার ৫শ বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে বোরো আবাদের বীজতলা ও ফসলি জমি। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
বুধবার সুজাতপুর পল্লীমঙ্গল মৎস্য ঘেরের দক্ষিণ পাশের বেড়িবাঁধ অতিরিক্ত পানির চাপে ভেঙে যায়। এতে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের বোরো আবাদ নিশ্চিত করতে ঘের পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় এক মাস ধরে ৪০টি সেচযন্ত্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছিল। তবে পানির অতিরিক্ত চাপে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
এতে মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর, হাটগাছা ও কুলটিয়া এবং অভয়নগর উপজেলার মশিয়াহাটী, বেদভিটা ও বলারাবাদ গ্রাম প্লাবিত হয়। অনেক বাড়ির আঙিনা, পুকুর, মৎস্য ঘের ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সদ্য তৈরি করা বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ভবদহ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না। সেচের মাধ্যমে চলতি বোরো মৌসুমে জমি চাষ করে কৃষকেরা নতুন স্বপ্ন দেখলেও তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কুলটিয়া গ্রামের স্বপন রায় জানান, তার তিন শতাধিক বিঘা জমির মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। একই গ্রামের তপন রায়ের মৎস্য ঘেরের উত্তর পাশের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ৮০০ বিঘা জমিতে উৎপাদিত মাছ নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির অভয়নগর শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক অনিল বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মৎস্য বিভাগ, কৃষি বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার না করা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এদিকে বৃহস্পতিবার যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সন্ত্রাস স্বর, কুলটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুল ইসলাম, এলাকার প্রবীণ নেতা পরিতোষ বিশ্বাস, নিপুন বিশ্বাসসহ স্থানীয় সুধীজন।