Breaking News:


শিরোনাম :
নির্বাচনে জেতার জন্য একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে! এটা স্পষ্ট শিরক। সরকারি কর্মচারীদের বেতন আড়াই গুণ করার প্রস্তাব রেখে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা আবারও ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী জনসভা :কানায় কানায় পূর্ণ সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক শপথ-জিয়ারত, প্রচারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু নেতাদের ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর, মিলবে মুনাফা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু আজ থেকে হযরত শাহজালাল রহ: মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

সরকারি কর্মচারীদের বেতন আড়াই গুণ করার প্রস্তাব রেখে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা

  • আপলোড টাইম : ০১:৩১ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ ধার্য করার সুপারিশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান নিয়মেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রাখা হয়েছে।

বুধবার ২১ জানুয়ারী সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রায় একই হারে পেনশন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ভাতাও বাড়বে।

এর আগে সর্বশেষ বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ২০০৯ সালের বেতন স্কেলের তুলনায় ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ১ নম্বর গ্রেডে বেতন ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা করা হয়েছিল। আর সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডে বেতন চার হাজার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে আট হাজার ২৫০ টাকা করা হয়। পরবর্তী বাজেটগুলোতে এই বৃদ্ধির বড় ধরনের চাপ পড়ে।

গতকাল জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার পরে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে এ সরকারের আমলে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী দেখার পর আন্তঃমন্ত্রণালয়ে এ কাঠামো নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। এরপর মন্ত্রিপরিষদে যাবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। নির্বাচিত সরকার এ প্রস্তাব পরিবর্তনও করতে পারে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বর্তমানে প্রদত্ত ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়মে সমন্বয় করা হতে পারে।

কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। রূপরেখা দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’ বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কথা জানায়।

কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করেছে। মতামত নিয়েছে দুই হাজার ৫৫২ জনের। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়েছে। কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।

গত ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। পরে সময় বাড়িয়ে এর জন্য আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে তিন সপ্তাহ আগে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিশন। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech