Breaking News:


শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা ইরানে আক্রমণাত্মক অভিযান শেষ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মায়ের দাফন সম্পন্ন বালাকোট ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব – মাওলানা এটিএম মা’ছুম নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় শুভেন্দুর সহকারী সহ নিহত ৫: একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসনে পশ্চিমবঙ্গ! বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ ১৮ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে – নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত ১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় শুভেন্দুর সহকারী সহ নিহত ৫: একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসনে পশ্চিমবঙ্গ!

  • ১০:৫৭ এএম, বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
ছবি কোলাজ: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নির্বাচনে বিজয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতায় চার জন নিহত হয়েছে। এর মাঝে রয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী চন্দ্রনাথ রাথও। তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার ৬ মে কলকাতার মধ্যমগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও দলীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, সোমবার ফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চন্দ্রনাথ রাথ এবং তার সঙ্গে আরেকজন গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে যায় হত্যাকারীরা। চন্দ্রনাথের গাড়ি একটু ধীর হওয়ার পরই তাকে লক্ষ্য করে চারটি গুলি ছোড়ে আততায়ীরা৷ যার তিনটি চন্দ্রনাথের শরীরে লাগে। তার সাথে থাকা অপরজন গুলিতে আহত হন৷ তাকে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজেপি জানায়, তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে টিএমসি বলছে, তাদের দুই কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার ঘোষিত ফলাফলে নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়ী হয়েছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গে এটাই তাদের প্রথম বিজয়। আঞ্চলিক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)’র নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজ আসনেও পরাজিত হয়েছেন।

কিন্তু তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে টিএমসি তাদের দুই কর্মীর ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ অভিযোগ তোলে। দলের মুখপাত্র নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এএফপিকে বলেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আমাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।’

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়৷ এতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। আর এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দায়িত্ব নেওয়ার কথা৷ তার আগেই ঘটল এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এদিকে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও একে ‘পরাজয়’ বলে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণে তিনি লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ৭ মে রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ।

তারপর কী হবে— তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠছে জনমনে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন।

শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকলে আগামীকাল ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার শপথ গ্রহণের আগের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমী ভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে— এমনটাই মত দিয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞরা।

ভারতীয় সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়র পর আর এক মুহূর্তও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে, মমতা পদত্যাগ না করলে আজ বৃহস্পতিবার ১২টা ১ মিনিট থেকেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।

প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর আগে ভারতের কোথাও এমন কোনো ঘটনার নজির নেই।

ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময়ে শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করে আসেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটা একটা সাংবিধানিক সৌজন্যর প্রকাশ।

রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে তিনিই কাজ চালান। কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারি ভাবে কবে শপথ নিতে চান তারা, তাও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ নেবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং ভারতের বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে। ওই দিন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশ মতো তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার সিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech