Breaking News:


শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা ইরানে আক্রমণাত্মক অভিযান শেষ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মায়ের দাফন সম্পন্ন বালাকোট ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব – মাওলানা এটিএম মা’ছুম নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় শুভেন্দুর সহকারী সহ নিহত ৫: একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসনে পশ্চিমবঙ্গ! বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ ১৮ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে – নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত ১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানে আক্রমণাত্মক অভিযান শেষ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি

  • ১১:৩৬ এএম, বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুরিও।

বুধবার ৬ মে ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে নতুন কোনো হামলা হলে, ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। রুবিওর এই বক্তব্যের আগে মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, নির্দেশ পেলে আবারও যুদ্ধ অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।

গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সংঘর্ষ নতুন করে বাড়ায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত পথ থেকে কোনো জাহাজ সরে গেলে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশটির প্রধান আলোচক বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার পর তেহরান এখনো জবাব দিতে শুরুই করেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।

তবে তেহরান এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কমান্ড জানায়, ‘সশস্ত্র বাহিনী কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন অভিযান চালায়নি।’

সোমবার ইরান মার্কিন বাহিনীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি ইরানি নৌযানে হামলা চালিয়েছে বলে জানায়, যেগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এক মাসের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় উত্তেজনা।

জেনারেল ড্যান কেইন(জন ড্যানিয়েল রেজিন কেইন) সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নির্দেশ পেলে ‘বড় ধরণের যুদ্ধ অভিযান’ আবার শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংযমকে দুর্বলতা ভেবে ভুল করা উচিত নয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত’ নিয়ে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি টালমাটাল অবস্থায় থাকলেও তিনি ইরানিদের আর হত্যা করতে চান না।

এর আগে তিনি এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘ইরানের কোনো সুযোগ নেই।’
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সংঘাতে যেতে চায় না’, তবে হামলা হলে ‘প্রচণ্ড ও ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ উপস্থিতি কমে যাবে। একই সঙ্গে তেহরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দুই মাসের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ইসরাইলের বিমানবাহিনীর প্রধান ওমের টিশলার বলেন, প্রয়োজন হলে পুরো বিমানবাহিনী পূর্ব দিকে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক প্রধান ইয়াল জামির জানান, উপসাগরে যেকোনো হুমকির জবাব দিতে সেনাবাহিনী ‘উচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছে।

ইরান কোনো নৌ ক্ষতির কথা অস্বীকার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নৌযানে থাকা পাঁচ বেসামরিককে হত্যার অভিযোগ এনেছে।

উত্তেজনার মধ্যেও ডেনমার্কের শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক জানায়, তাদের একটি জাহাজ মার্কিন নিরাপত্তা বেষ্টনীতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে উল্লেখ করেছে। সৌদি আরব রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
রুবিও অভিযোগ করেন, জাহাজ চলাচলে হুমকি ও সাগরে মাইন পেতে ইরান ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে, যাতে তেহরানকে হামলা বন্ধ ও মাইনের অবস্থান জানাতে বলা হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রণালীতে টোল আদায়ের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক করিডোর চালু করতে হবে। রুবিও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই এ প্রস্তাবে ভোট হতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান সংলাপে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ নীতিকে’ ‘অসম্ভব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

জ্বালানি খরচ বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইউরোপীয় মিত্ররা সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক্সে বলেন, ‘এই হামলাগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরের নিরাপত্তায় ইউরোপের ওপর সরাসরি প্রভাব রয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech