Breaking News:


শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস শিশু ধর্ষণের অভিযোগ : রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম, পুলিশের গাড়িতে আগুন যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে কাজ করে যাব- সেনা প্রধান ছয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে, নির্দেশ মোজতবা খামেনির বরিশালের গৌরনদীতে বজ্রপাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ১ ঈদের আগে ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ৩২ হাজার কোটি টাকা রামিসা হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু রামিসা: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সকলের

শিশু ধর্ষণের অভিযোগ : রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ১১:১৩ এএম, শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামে ৩ বছরের শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষকের বিচারের দাবীকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা ও পুলিশের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার ২১ মে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেল পাঁচটার দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

জানা যায় বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা।

এ সময় উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, “বাংলাদেশে বিচার নেই। ধর্ষককে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরা মেরে ফেলব। তার বিচার আমরাই করব। একপর্যায়ে জনতা ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত।

দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারেন স্থানীয়রা। রাতে এ ঘটনা আরও ছড়ালে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টা থেকে স্থানীয় লোকজন বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়কে চলে আসে। বিভিন্ন অলিগলি থেকে পুলিশের ওপর হামলা শুরু করেন।

রাত ১১টার দিকে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই সাংবাদিকসহ তিনজন আহত হন। এছাড়া আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, বিকেলে ধর্ষণের অভিযোগ শুনে পুলিশ গিয়ে সন্দেহভাজনকে আটক করে। আমরা গিয়ে দেখি সেখানে দুই থেকে তিনশ লোক জড়ো হয়ে গেছে। তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায়। তারা অভিযুক্তকে মেরে ফেলতে চায়, দেশে তো আইন আছে!

তিনি বলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা জড়ো হয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সিটিজেন ফোরামের সহায়তায় আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসামিকে হেফাজতে নিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাত ১১টার পর অভিযুক্তকে বাকলিয়া থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। তারা শাহ আমানত সংযোগ সড়কে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে পৌঁছে যায়। এ সময় কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটে। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন স্থানীয়রা।

এদিকে এসব সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখেও পড়েন কয়েকজন সাংবাদিক। আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল কাইয়ুমকে একটি কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তিনি ফেসবুকে আটকে থাকার কথা জানালে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে পরে র‌্যাব ও আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের খোঁজখবর নেন।

শেষ খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech