।।বিকে রিপোর্ট।।
ঈদ শুধু উৎসব নয়, যেন শেকড়ে ফেরার এক উপলক্ষ্যও। এবারের ঈদুল ফিতরে দীর্ঘ ৯ দিনের লম্বা ছুটিতে নাড়ীর টানে অধিকাংশই ছুটে চলেছেন গ্রামের বাড়ী। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ির পথে ছুটছেন হাজার হাজার নগরবাসী। এতে সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছে টার্মিনালগুলোতে। অন্যদিকে নগর হয়ে পড়ছে ফাঁকা।
ঈদের ছুটি কাটাতে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখী মানুষের ঢল। গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে যাত্রীর চাপ বাড়লেও নেই দৃশ্যমান যানজটের ভিড়। অলস সময় কাটাচ্ছেন কাউন্টারগুলোর কর্মীরা। কেউ কেউ আবার হাকডাক দিয়ে যাত্রী ডাকছেন। ঠিক সময়ে বাস ছাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার থেকেই ছুটছে মানুষ। সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকে।
সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাড়তি সতর্কতাসহ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে রেলওয়ে। ঈদে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিটও বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে আজ।
এদিকে বাস টার্মিনালগুলোতে বাসে বাড়ি ফেরার চাপ নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ বাস সিট ফাঁকা রেখে বাস ছেড়ে যাচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন, এবার ভিড় থাকলেও ভোগান্তি কম। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ঈদযাত্রা চলছে।
লঞ্চের কর্মীরা বলছেন, শেষ সময়ে চাপ বেড়েছে যাত্রীর। লঞ্চে ঢাকা ছাড়ছেন হাজারও মানুষ।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, স্পেশাল সার্ভিসসহ বরিশাল-ঢাকা রুটে এবার মোট ১৯টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাত্রী সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া ভায়া রুটের আরো দুই-তিনটি লঞ্চ যাত্রী বহন করবে। লঞ্চ কাউন্টারগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯টি লঞ্চে বিভিন্নমানের প্রায় পাঁচ হাজার কেবিন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি লঞ্চই ডেকে হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারে।
বৃহস্পতি এবং শুক্রবারের চাপের পর ঢাকা এখন বেশ ফাঁকা। রাস্তা-ঘাটে সীমিত মানুষের চলাচল। মেট্রোতেও বেশ বিরতি দয়ি চালানোর পরও নেই মানুষের চাপ।
মহাখালী জোনের পরিদর্শক (ট্রাফিক) তারিকুল আলম সুমন বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় আশা করি চলাচল নির্বিঘ্নে করতে পারবে লোকজন। মহাখালী টার্মিনালে কোনো চাঁদাবাজি বা টিকিট কালোবাজারি নেই।