Breaking News:


দুর্ভাগ্যবশত’ প্রবাস জীবন কাটাতে হচ্ছে: তারেক রহমান

  • ১১:৫৭ এএম, রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
“দুর্ভাগ্যবশত” প্রবাস জীবন কাটাতে হচ্ছে বলে আক্ষেপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ার‌ম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “দুর্ভাগ্যবশত আমাকে বহু বছর প্রবাস জীবনে কাটাতে হয়েছে, কাটাতে হচ্ছে।”

শনিবার ৯ আগস্ট রাজধানীর কাকরাইলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ‍যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে ৫০ বছরেরও বেশি সময় হয়েছে…আমরা হাঁটি হাঁটি করেও বারে বারে বাধাগ্রস্ত হয়েছি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চালু করতে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে এক/এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় কারামুক্ত হয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার অনুপস্থিতিতে পাঁচ মামলায় সাজা দেওয়া হয়। এছাড়াও দায়ের করা হয় শতাধিক মামলা। এছাড়াও তার বক্তব্য বিবৃতি প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

আদালতের চোখে তিনি হয়ে যান ‘পলাতক আসামি’। এমনকি তার বক্তব্য বিবৃতি প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আসে। এর মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারেককে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়।

ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু আর মায়ের কারাগারে যাওয়ার মত দুঃসময়েও তার দেশে ফেরা হয়নি।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচনের ঘোষণার আসার পর তারেক রহমানের দেশের ফেরা বিষয়ে কথা হচ্ছে। তিনি নিয়মিতই দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা বিএনপির কাছে, একটি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা তৈরি করা। আমরা যদি একটি সঠিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমরা সবর্ত্র জবাবদিহিতা গড়ে তুলতে পারব। আমরা যদি এখানে (ড্যাব) শুরু করতে পারি, ধীরে ধীরে আমরা আমাদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু করতে পারব।

লন্ডনে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা বলে ধরে তিনি বলেন, একটি অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, যেহেতু এই দেশে একটি জবাবদিহিতা আছে সেজন্য একজন রোগী যখন জিপির কাছে অথবা হসপিটালে যাচ্ছে সে ন্যূনতম একটি সেবা পাচ্ছে। অর্থাৎ শুধু একজন রোগী হিসেবে নয়, যেকোনো জায়গায় যেকোনো মানুষ যখন যাচ্ছে তার যেটি প্রাপ্ত, সেই প্রাপ্য সেবা সে পাচ্ছে।

তার পর্যবেক্ষণ, ইংল্যান্ডে সেবা পাওয়ার এমন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পেছনের কারণ হল- বহু বছরের প্রচেষ্টায় সেখানে তারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা গড়ে ওঠেনি।

তারেক রহমান বলেন,“আজকে সংস্কার নিয়ে কথা-বার্তা, আলোচনা হচ্ছে। আপনাদের প্রত্যেকের মনে আছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এই সংস্কারগুলো, এই যে যত সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে তার ৯৯ ভাগ এই প্রস্তাবনাগুলো আজকে থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিল। সেই কথাগুলোই বিভিন্নভাবে আজকে সরকার গঠিত সংস্কার কমিশন আলাপ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে।

যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির দেওয়া ৩১ দফায় চিকিৎসা সংক্রান্ত যে দফাটি আছে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধুমাত্র সরকার, শুধুমাত্র আমাদের দলের সংসদ সদস্য অথবা শুধুমাত্র আমাদের নেতৃবৃন্দের দ্বারা সম্ভব নয় ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা। আমাদেরকে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তার মতে, আগামী দিনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেহেতু বিএনপির দেশ পরিচালনার সম্ভাবনা বেশি, তাই মানুষ সেজন্য বিএনপির কাছে প্রত্যাশা করে, আরও ভালো কিছু, কিছু পরিবর্তন তারা দেখতে চায়। সেই পরিবর্তন আনার শুরুটা আমাদের করতে হবে।”

কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ।

এছাড়া কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, পারভেজ রেজা কাকন, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মামুন আহমদ, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech