।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত সমাধানে শান্তিচুক্তির জন্য উভয় পক্ষকেই কিছু ভূখণ্ড ছাড় দিতে হবে। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার ১৯ আগস্ট এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে রাশিয়া ও ইউক্রেন— উভয়কেই কিছু ভূখণ্ডগত ছাড় দিতে হবে।
তিনি বলেন, এটা সহজ নয়, হয়তো ন্যায়সংগতও নয়, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করতে হলে এমনটিই করতে হবে।
রুবিও গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন।
রুবিও জানান, ঠিক কোন সীমারেখা হবে তা নির্ধারণ করবেন পুতিন ও জেলেনস্কি, আর যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হবে উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আমরা সেখানে সমন্বয় করার জন্য থাকব।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইউক্রেনের জন্য একটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করছে। তিনি বলেন, এটা শান্তিচুক্তির পর কার্যকর হতে হবে, যাতে ইউক্রেন ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বোধ করে।
অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব চমৎকার হয়েছে’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির, তবে এটিকে ‘সেরা বৈঠক’ বলতে চান না তিনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, নিকট ভবিষ্যতেই হবে সেরা বৈঠক।
সোমবার ১৮ আগস্ট স্থানীয় সময় দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলেনস্কি নিজে।
দেড় ঘণ্টার সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খুবই চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা স্পর্শকাতর সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি… তবে আমার মনে হয় সেরা আলোচনাটা এখনও বাকি আছে।
প্রসঙ্গত জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ী শান্তি চুক্তির পক্ষপাতী এবং নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং জেলেনস্কির সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করতে চান তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি একমত এবং তিনিও ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চাইছেন।