।।বিকে রিপোর্ট।।
আজকে আমরা রাজনৈতিকভাবে একটা অস্বাভাবিক অবস্থায় আছি। এখনও গণতন্ত্র উদ্ধার হয়নি। জনগণ ভোটের মাধ্যমে এখনও তাদের সংসদ এবং সরকার গঠন করতে পারেনি। ড. ইউনূস একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। আমরা বারবার অনুরোধ করেছি। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন দিন- বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার ১ মে বিকেলে নয়াপল্টনে মে দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, এটা প্রথম বিএনপিই নিয়ে এসেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শহীদ জিয়াউর রহমান নিয়ে এসেছিলেন। আজকে অনেক মিডিয়া এখানে দাঁড়িয়ে আছে, জিয়াউর রহমান সংস্কার করে মিডিয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার আমাদের দাবি, আমাদের সন্তান। সুতরাং কঠিন সময়েও সংস্কারের কথা চিন্তা করে আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়েছিলেন। আজকে সমাবেশ থেকে দাবি করছি, অবিলম্বে যেসব সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে তা সামনে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। যেগুলো একমত হয়নি তা আগামী সংসদে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করা যাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে অবহেলা করে এমন কোনো চুক্তি করবেন না, যা বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে যায়।
এর আগে ‘মে দিবস দিচ্ছে ডাক, বৈষম্য নিপাত যাক’- এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে নয়া পল্টনে শুরু হয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শ্রমিক সমাবেশ। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের কার্যক্রম। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের লম্বা সড়ক সেই ফকিরাপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত হাজারো শ্রমিকের উপস্থিতিতে সমাবেশটি রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশের মাথায় লাল টুপি, গায়ে লাল গেঞ্জি পড়ে আসা শ্রমিকদের কণ্ঠের অন্যতম স্লোগান হচ্ছে, ‘দুনিয়া মজদুর এক হও, লড়াই করো’ আন্তর্জাতিক শ্রমিকদের এই সার্বজনীন স্লোগানের পাশাপাশি ‘অবিলম্বে সংসদ নির্বাচন চাই, নির্বাচন দিতে হবে দিতে হবে’ এই স্লোগানও উচ্চারিত হয়েছে সর্বক্ষণ।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ১২ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-অবিলম্বে সংসদ নির্বাচন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচার, সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার, বন্ধ শিল্প চালু, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান, আউট সোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ী পদ সৃষ্টি, অবাধ, গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, শ্রমিক হত্যার বিচার, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, বৈষম্যহীন জাতীয় পে-স্কেল ও মজুরি হার ঘোষণা, জরুরি পরিষেবা আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মঞ্চে লাল রঙের বিশাল ব্যানারে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি রয়েছে। আর লেখা আছে, ‘মে দিবসে দিচ্ছে ডাক, বৈষম্য নিপাত যাক’।
সকাল ১০টা থেকে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে পুরো এলাকাকে সরব করে রাখে। সকাল থেকে ঢাকা ও পাশের জেলাগুলোর শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা আসতে শুরু করে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, মজিবুর রহমান সারওয়ার, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. আমীর খসরু ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।