পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল : ‘পুলিশ সপ্তাহ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা

  • ১২:৫৭ পিএম, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
গত ১৫ বছর পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার ২৯ এপ্রিল সকালে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ এর উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তিন দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পুলিশ প্রধান বাহারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভাষণে তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছর পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল। অবৈধ আদেশ পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী জনরোষের শিকার হয়। মানুষের অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে পুলিশকে।

আগামী নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরাজিত শক্তি যেন দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, এজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল বাহারুল আলম বিপিএম এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে উদ্বোধনী দিনেই এবার পদকের জন্য ঘোষিত ৬২ জন কৃতি পুলিশ সদস্যকে পদক পরিয়ে দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপারসহ সব পদবীর পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

আজ বেলা আড়াইটায় ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে পুলিশের করণীয়, জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এ সেমিনার থেকে আসবে একগুচ্ছ সুপারিশ।

পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, এ বছর আমরা কার্যকর পুলিশ সপ্তাহ পালন করতে চাই। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিকল্পনা শুনে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া এবার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা তাদের পরামর্শ শুনতে চাই।

সূত্র বলেছে, এবারই প্রথমবারের মতো নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনবে পুলিশ। এজন্য আগামী ১ মে বেলা ১২টায় নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় নির্ধারণ করা আছে। এর আগে কখনো পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের সঙ্গে এভাবে মতবিনিময় হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠ পুলিশকে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এসব বিষয় পুলিশ সপ্তাহে আলোচনা এবং উত্তরণের উপায় বের করা হবে।এ ছাড়া গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকালে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। এতে পুলিশ বাহিনীতে বিপর্যয় নেমে আসে। ভবিষ্যতে যেন পুলিশকে আর এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়- এ বিষয়ে নিজেদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে চায় পুলিশ।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech