।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ)।
মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ‘র’-এর বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বাংলা সংস্করণে এ খবর জানা গেছে।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে তারা।
ইউএসসিআইআরএফের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিউনিস্টশাসিত ভিয়েতনাম ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করেছে। যে কারণে ভিয়েতনামকে ‘‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’’ হিসাবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও ভারতের মতো চীনকে নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগের কারণে ভিয়েতনামের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পাল্টা হিসাবে নয়াদিল্লিকে দেখছে ওয়াশিংটন। এর ফলে ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বসবাসরত শিখ ধর্মাবলম্বী, খালিস্তানি আন্দোলনের নেতাদের ভারত নিশানা করছে বলে অভিযোগ করেছে দেশ দুটি। এই অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি র-এর সাবেক কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে এক খালিস্তানি নেতাকে ব্যর্থ হত্যাচেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ২০২৪ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
এতে বলা হয়েছে, গত বছরের নির্বাচনী প্রচারের সময় ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্য প্রচার করে। গত বছরের এপ্রিলে দেশটিতে বসবাসরত মুসলমানদের ‘‘অনুপ্রবেশকারী’’ আখ্যা দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘‘মুসলিমরা বেশি বেশি সন্তান’’ নেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের এসব প্রতিবেদনকে ‘‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট’’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত সরকার।
বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি কঠোর বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফ-এর প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেন। বিবৃতিতে সংস্থাটিকে ‘উদ্বেগের সংস্থা’ (এনটিটি অব কনসার্ন) হিসেবে চিহ্নিত করারও দাবি করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে গত কয়েক মাসে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শিখ কর্মী গুরুপাতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
রিপোর্টে সরাসরি ‘র’-এর নাম উল্লেখ করে সংস্থাটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুপারিশ করা হলেও, ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গোয়েন্দা সংস্থার কাজ কখনোই ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসসিআইআরএফ-এর এই প্রতিবেদন ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কে নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে নয়া দিল্লি ইতোমধ্যে বিষয়টিকে ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে এবং কূটনৈতিক স্তরে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।