।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এ জেলাতেই।
বুধবার ৭ জানুয়ারী সকাল ৬টার দিকে তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই এ বছরে সারা দেশের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে, ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
জানা যায়, কুয়াশার ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকলেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে সকাল থেকেই নগর ও গ্রামাঞ্চলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডার কারণে ব্যাহত হচ্ছে এ মৌসুমের ধান রোপণ। কষ্টে আছেন ছিন্নমূল মানুষ। গত তিন দিন থেকেই এমন আবহাওয়া বইছে জেলাজুড়ে।
তাপমাত্রা কমার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস শীতকে বাড়িয়ে তুলেছে কয়েকগুণ। দিনে ঠিকমতো দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারপাশ। যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, টানা তিন সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়া জনজীবনে প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকাল ৬টায় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এই মৌসুমে এটিই সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
উল্লেখ্য, যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।